আজকালের প্রতিবেদন: হিজলির নামডাক ব্রিটিশ আমলে। সশস্ত্র বিপ্লবে অংশ–‌নেওয়া দেশের স্বাধীনতা–‌যোদ্ধাদের বন্দি রাখতে সে–‌আমলে তৈরি হয়েছিল হিজলি জেল। পরে, আইআইটি তৈরির পরও হিজলি তার নামডাক খোয়ায়নি। আজ, ৮ মার্চ নতুন করে সংবাদ–‌শীর্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরের হিজলি। নারী দিবসে খড়্গপুরের কাছে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের হিজলি বাংলার প্রথম মহিলা–‌পরিচালিত স্টেশনের তকমা পাচ্ছে।
গান্ধীনগর আর মাতুঙ্গার পর হিজলি দেশের তৃতীয় প্রমীলা–‌পরিচালিত স্টেশন। তবে, এখনই পুরোপুরি নয়। আপাতত শুধু সকালের শিফ্‌টটিই পুরোপুরি মহিলাদের নিয়ন্ত্রণে থাকছে। ওই সময় ট্রেনের যাওয়া–আসা, টিকিট বিক্রি ও পরীক্ষা, সিগন্যাল দেওয়া, স্টেশনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে ওয়েটিং রুম— সব কিছুই পরিচালনা করবেন মহিলারা। ইতিমধ্যে এই স্টেশনের জন্য একজন মহিলা স্টেশন মাস্টার নিযুক্ত করা হয়েছে। স্টেশনের কমার্শিয়াল বিভাগে বুকিং ক্লার্ক, টিকিট পরীক্ষক, আরপিএফ জওয়ানের মতো ১১ মহিলা কর্মী কাজে যোগ দিয়েছেন। সকাল ছ’‌টা থেকে দুপুর দুটো জেনারেল শিফ্‌টে মহিলা কর্মীরা হিজলি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব সামলাবেন।
খড়্গপুর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে হিজলি স্টেশন দিয়ে হররোজ ৩৮টি যাত্রিবাহী ট্রেন যায়–‌আসে। ৯টি প্যাসেঞ্জার, ৭টি মেল–এক্সপ্রেস। রয়েছে খড়্গপুর এড়িয়ে দক্ষিণ ভারতে যাতায়াতকারী বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেন আর প্রচুর মালগাড়ি। দিনের ওই নির্দিষ্ট সময়ে হিজলি দিয়ে–‌যাওয়া সব ট্রেনই চলবে সেখানকার মহিলা কর্মীদের নির্দেশ মেনে। দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ জানান, স্টেশনের তিনটি শিফ্‌ট মহিলা–‌পরিচালিত করতে প্রায় ২৬ জন কর্মীর প্রয়োজন। বিভিন্ন জায়গা থেকে সেখানে কাজ করতে সমর্থ মহিলা কর্মীদের আনা ও সেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ার পর শিগগিরই হিজলি স্টেশনটি পুরোপুরি মহিলা–‌পরিচালিত হবে। তিনি জানান, খড়্গপুরের পর দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের আদ্রা, চক্রধরপুর ও রঁাচি বিভাগের একটি করে স্টেশনকেও মহিলা–‌পরিচালিত স্টেশন হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। অন্য দিকে, ট্রেনের দায়িত্ব আংশিক ভাবে মহিলাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নজির গড়েছে বাংলা। দূরপাল্লার এক ট্রেনের যাত্রীদের টিকিট–‌পরীক্ষার কাজ পুরোপুরি মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়ার পর ওই ট্রেনের যাত্রীদের খাবার বিলির দায়িত্বও মহিলাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ভাবনা–‌চিন্তা শুরু করেছে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেল। ২৬ জানুয়ারি থেকে হাওড়া–‌দিঘা সুপারফাস্ট এসি এক্সপ্রেসের যাত্রীদের টিকিট–‌পরীক্ষার কাজে শুধুমাত্র মহিলা কর্মীদের নিয়োগ করে দেশে নজির গড়েছে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেল। প্রতিদিন দু’‌জন করে মহিলা টিকিট–‌পরীক্ষক এই ট্রেনে টিকিট–‌পরীক্ষার কাজ করছেন। হাওড়ায় কর্মরত ৬ মহিলা ট্রাভেলিং টিকিট ইনস্পেক্টরের মধ্যে থেকে প্রতিদিন ২ জনকে এই কাজে পাঠানো হচ্ছে। ট্রেনটি এক সময় দিঘা–‌দুরন্ত নামে পরিচিত ছিল। তখন হাওড়া ও দিঘার মাঝে কোথাও থামত না। পরে ট্রেনের নাম বদলে যায়। হাওড়া ও দিঘার মাঝে মেচেদা, তমলুক ও কঁাথি স্টেশনেও এখন থামে ট্রেনটি। স্টপেজ বাড়ায় এই ট্রেনের জনপ্রিয়তা, গুরুত্ব বেড়েছে। ট্রেনটির যাত্রীদের খাবার দেওয়ার কাজটিও মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে, জানিয়েছেন সঞ্জয়বাবু। ওই কাজে ৮ থেকে ১০ জন মহিলার প্রয়োজন হবে। তবে ট্রেনটির চালক ও গার্ডের দায়িত্ব মহিলাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনই কোনও ভাবনা–‌চিন্তা নেই রেলের।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top