‌মিল্টন সেন, হুগলি: মুলটি। হুগলির পাণ্ডুয়া থানার ইটাচুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম। লকডাউন চলাকালীন মে মাসে সেখানে ত্রাণ বিলি করতে যান সিঙ্গুরের শিক্ষক শ্যাম হাঁসদা। মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করে ফেলেন সকলের মাঝে মিশে থাকা এক অপ্রকাশিত প্রতিভা, অপরূপ কণ্ঠের। অচেনা সেই গ্রামের রাস্তায় কানে আসে বলিউড গায়িকা নেহা কক্করের ‘‌ও হামসফর’‌ গান। গাইছিল এক আদিবাসী কন্যা। চাঁদমণি হেমব্রম। বলিউড থেকে ঝুমুর। গান চলে একের পর এক। মুগ্ধ হয়ে বসে তা মোবাইলবন্দি করতে থাকেন শ্যাম। সময় নষ্ট না করে অস্ফুটিত এই প্রতিভা তিনি ভাগ করে নেন সোশ্যাল মিডিয়ার অফুরন্ত দুনিয়ায়। ফেসবুকে চাঁদমণির গান শুনে তা শেয়ার করেন দুর্গাপুরের কাঁকসা মণিকাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর। মাত্র ২ দিনে ওই পোস্টের ১২ লাখ শেয়ার হয়। রাতারাতি ভাইরাল। ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। বিভিন্ন সঙ্গীত পরিচালক, এমনকী ইন্ডিয়ান আইডল কর্তৃপক্ষও যোগাযোগ করেন চিরঞ্জিতের সঙ্গে। চাঁদমণিকে দিয়ে হিন্দি সিনেমার গান গাওয়ানোর প্রস্তাব দেন বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক অ্যায়শান আদ্রি। লকডাউনে অন্যত্র যাওয়া চাঁদমণির পক্ষে সম্ভব নয়, তাই পাঞ্জাব থেকে কলকাতায় ছুটে আসেন অ্যায়শান। এখানেই হয় ‘‌জুদাইয়া বে’‌ গানের রেকর্ডিং। আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকাশ পাবে গানটি। এখানেই শেষ নয়, জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ইন্ডিয়ান আইডলের ১৩তম সিজনেও দেখা যাবে ওই আদিবাসী কিশোরীকে। ছোট থেকেই সংসারে অভাব দেখেছে হঠাৎ চাঁদ হাতে পাওয়া চাঁদমণি। বছর দশেক আগে বাবা মারা যান। মা মালতী হেমব্রমের সঙ্গে জমিতে ধান রোয়ার কাজ করে কেটেছে শৈশব ও কৈশোরের অনেকটাই সময়। ছোট্ট মাটির বাড়িতে ২ বোন আর মাকে নিয়ে থাকে সে। তবে মনে বড় হওয়ার সুপ্ত বাসনা রয়েছে পাণ্ডুয়ার সারদেশ্বরী কন্যা বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির ছাত্রী চাঁদমণির। গানের তালিম নেওয়ার সাধ থাকলেও সাধ্য ছিল না। দূর থেকে ভেসে আসা রেডিও বা হোম থিয়েটারে গান শুনে–শুনেই শেখা। সাত সমুদ্র তেরো নদী দেখার স্বপ্ন চোখে নিয়ে চাঁদমণি জানায়, সঙ্গীতচর্চা করে বড় শিল্পী হতে চায় সে। গান গেয়ে উপার্জনের সবটাই তুলে দিতে চায় মায়ের হাতে। শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর জানিয়েছেন, রেকর্ডিং শেষ। সামনেই মাধ্যমিক। তাই ওকে পড়াশোনায় মন দিতে বলা হয়েছে। ওদিকে, ইন্ডিয়ান আইডলের বাছাই পর্বে ৩টি ধাপ পার করে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছে চাঁদমণি।

জনপ্রিয়

Back To Top