মধুরিমা রায়:‌ জনপদের নাম ডোমজুড়। এই বিধানসভা কেন্দ্রে গত দশ বছর যাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে পেয়েছেন মানুষজন। সেই রাজীব ব্যানার্জি এবার বিজেপির টিকিটে লড়ছেন এখানে। অমিত শাহের পাঠানো বিশেষ বিমানে চড়ে দিল্লি গিয়ে নতুন দলে যোগ দিয়েছেন মাস দুয়েক আগেই। মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী রাজীব বলেছেন, ‘‌ডোমজুড়ের মানুষের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক। মানুষ জানেন আমি কী ভাবে কাজ করেছি শেষ দশ বছর। প্রতিপক্ষ নিয়ে আমার কোনও চিন্তা নেই। রাজ্য জুড়ে পোস্টার পড়েছে ‘‌আসল পরিবর্তন চাই’‌। এর সংজ্ঞাটা ঠিক কী? রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী ক্ষোভ উগরে বলছেন ‘‌বেকার যুবকদের চাকরি নেই, পুলিশ থেকে পার্শ্বশিক্ষক, সরকারি কর্মচারী কেউ তো খুশি নেই। সামাজিক নিরাপত্তা কোথায়? লেখাপড়া করে রাজ্য ছেড়ে লোকজন চলে যাচ্ছেন অন্য রাজ্যে। শিল্প ছাড়া কোনও সমাজ এগোতে পারে না।’‌ 

 

২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তারপর কাজের কাজ কিছু হয়নি। সে কারনেই এবার আসল পরিবর্তনের পক্ষে রাজীবের মতো রাজনীতিবিদ, যাঁর ভাবমূর্তির স্বচ্ছতা নিয়ে বিশেষ দ্বিমত নেই। তাঁর মতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের পরিস্থিতিও নেই। একটু একটু করে একে ওকে তাকে খুশি করতে গিয়ে রাজ্য সরকার আসলে কাউকেই খুশি করতে পারেনি।

তাই আসল পরিবর্তন চাই। যুবরা চাকরি পাবেন, মহিলারা সুরক্ষিত থাকবেন, শিল্প হবে, রাস্তা হবে, কৃষি হবে। সার্বিক উন্নয়ন হবে রাজ্যে। 

নিজে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দলে। বারবার কাজ করতে চেয়ে পারেননি। রাজীবের সন্দেহ, হয়তো তাঁর কাজের উৎসাহ দেখে দলের অনেকই ঈর্ষান্বিত হতেন। তাঁর খেদ, রাজ্যে বছরের পর বছর বিনিয়োগ হয়নি। দেনার দায়ে ডুবে গেছে রাজ্য। এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বরাবরের সংঘাতে রাজ্যের ক্ষতি হয়েছে। তাই এবার ‘‌ডবল ইঞ্জিন’‌ চাই বলেই মনে করছেন রাজীব। এলপিজি, পেট্রোল ডিজেলের দাম চড়া নিয়ে জিজ্ঞাসা করায় রাজীবের পাল্টা প্রশ্ন, রাজ্যে বিদ্যুতের মাশুল নিয়ে কেন ভাবা হয়নি? কেন দশ বছরে সতেরো বার মাশুল বেড়েছে বিদ্যুতের। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২০০ ইউনিট অবধি কাউকে বিদ্যুতের মাশুল দিতে হবে না। 
‘‌গদ্দার’‌, ‘‌মীরজাফর’‌ বলে বারবার তাঁকে গালাগাল দিচ্ছেন দিদি। শুনলে খারাপ লাগে তাঁর? এ প্রশ্নের জবাবে খানিকটা হতাশার সুরেই বলছেন, ‘‌যাঁরা বলছেন তাঁরা দলের বিভীষণকে আগে চিহ্নিত করুন। মমতা ব্যানার্জি নিজে কংগ্রেসে থেকে বেরিয়ে এসেছেন, এনডিএ-র সঙ্গে নিজের সুবিধে মতো যোগ দিয়েছেন বা বেরিয়ে এসেছেন। এতবার এ দল সে দল করেছেন, কী বলবেন তাঁকে?’‌ নিজের জয়ের বিষয়ে ২০০ শতাংশ নিশ্চিত রাজীব। তবে শেষ কথা তো বলবেন ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটাররা। প্রতীক্ষা দোসরা মে অবধি।

জনপ্রিয়

Back To Top