বিজেপি অন্দরে তুমুল অশান্তি এক মহিলাকে ঘিরে! কর্মীদের তোপ সৌমিত্র-‌কে

শ্রাবণী গুপ্ত:‌ কে এই মৌমিতা সাহা? যাঁকে কেন্দ্র করে আপাতত উত্তাল রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চা। উত্তপ্ত বৈঠক, হাতাহাতি, রাজু সরকারের মৃত্যু, রহস্যজনক ডাইরি পেরিয়ে যুব মোর্চার অন্দরে এখন তীব্র অশান্তি সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ও এক নেত্রীকে ঘিরে। একদিকে সৌমিত্র খাঁ। অন্যদিকে মৌমিতা সাহা। বেলেঘাটা নিবাসী এই মৌমিতা সম্প্রতি যুব মোর্চার রাজ্য সম্পাদিকার পদ পেয়েছেন। দলের অন্দরে অভিযোগ, মাত্র বছর দুয়েক আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই মহিলা নেত্রী রাতারাতি সংগঠনের শীর্ষে পৌঁছেছেন সৌমিত্রর হাত ধরে। 
যুব মোর্চার একাধিক নেতা অভিযোগ করছেন, রাজ্য সভাপতি সৌমিত্রর সঙ্গে "বিশেষ সম্পর্ক" রয়েছে মৌমিতার। এমনকি সৌমিত্র ও সুজাতার বিচ্ছেদের পিছনেও মৌমিতা কে দায়ী করছেন এই নেতারা। মৌমিতা অবশ্য নিজের ফেসবুক পেজে সৌমিত্র কে "দাদা" সম্বোধন করে নমস্কার জানিয়েছেন নতুন পদ পাওয়ার পরে। 
মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট তুলে aajkaal.in কে পাঠিয়েছেন। তাঁদের মূল অভিযোগ, দিন কয়েক আগে হেস্টিংস কার্যালয়ে বৈঠকে হঠাৎই মৌমিতার নাম প্রস্তাব করা হয়। যার বিরোধিতা করেন বৈঠকে হাজির থাকা একাধিক যুব কর্মী। এদের অন্যতম যুব মোর্চার হাওড়া - হুগলি-মেদিনীপুর অঞ্চল পর্যবেক্ষক বনশ্রী মণ্ডল। অভিযোগ, সেই কারণে ওই বৈঠক থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। 
যে হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখানে দেখা যাচ্ছে, bjym ওয়েস্ট বেঙ্গল অফিসিয়াল এই গ্রুপে একাধিক যুব কর্মী সৌমিত্র কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন। কেন পুরনো কর্মীদের সরিয়ে মৌমিতা কে এই দায়িত্ব দেওয়া হল? এমনকি এখানে সৌমিত্র আসলে তাঁদের দল থেকে তাড়াতে চাইছেন এই অভিযোগ ও তোলা হয়। দেখা যাচ্ছে, তীব্র ভর্ৎসনার মুখে সৃজন নামে যুব মোর্চার এক অফিস সেক্রেটারি কে নির্দেশ দিচ্ছেন, তাঁকে যেন গ্রুপ অ্যাডমিন করা হয়। গ্রুপ অ্যাডমিন হওয়ার পরে প্রথমেই ওই গ্রুপ থেকে ৩ জনকে সরিয়ে দেন সৌমিত্র। কিন্তু তাতেও আক্রমণ না থানায় গ্রুপে বাকি সদস্যদের পোস্ট করার অধিকার বন্ধ করে দেন তিনি। 
বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে স্ত্রী সুজাতার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তাঁর। সূত্রের খবর, এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কার্যত হাউ হাউ করে কেঁদে দলের অন্দরে তিরস্কৃত হন তিনি। সম্প্রতি আচমকা ফেসবুক লাইভ করে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন সৌমিত্র। যদিও পরে আবার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন সৌমিত্র খাঁ। এই সপ্তাহেই সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন দিল্লিতে আলাদা করে অমিত শাহের সঙ্গে দেখাও করেন সৌমিত্র। গেরুয়া শিবিরের খবর অনুযায়ী, সৌমিত্র কে সংযত আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে। যুব মোর্চার সাংগঠনিক স্তরে আবার কি তাহলে বড় কোনও বদল আসছে? নজর এখন সেদিকেই। 
(হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট এর সত্যতা যাচাই করেনি aajkaal.in)