সঞ্জয় বিশ্বাস, অলক সরকার ও পার্থসারথি রায়, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি: তিন দিন ধরে তুষারপাত হয়েই চলেছে পাহাড়ে। সিকিম তো বটেই, সান্দাকফুতেও বরফ জমে যেন চাদর!‌ রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় সেখানে যেতে পারছে না কোনও গাড়ি। সেই সঙ্গে পাহাড়–‌সমতলে চলছে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। দার্জিলিং, কালিম্পঙের বেশ কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। আর এ–‌সবের জেরে ফের হাড়–কঁাপানো ঠান্ডা নেমে এসেছে উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতলে। এদিন উত্তরের প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। টাইগার হিলেও এদিন সামান্য তুষারপাতের খবর মিলেছে। ফলে এই অসময়ের তুষারপাতে পর্যটকদের আনন্দের সীমা নেই।
দু’‌দিন আগে আচমকা সিকিমের উচ্চ পার্বত্য এলাকায় বরফ পড়তে থাকে। পরের দিন সান্দাকফু, ফালুট, টংলুতেও হালকা তুষারপাত হয়। সেটাই শেষ নয়, এদিনও সান্দাকফু–সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দিনভর তুষারপাতের খবর পাওয়া গেছে। টাইগার হিলেও হালকা তুষারপাত হয়েছে। কুয়াশা আর বৃষ্টিতে শৈলশহরে তাপমাত্রা কমে ৩–৪ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে আসে। দুপুরের পর বৃষ্টি কমলেও, বিকেলে ফের ঝেঁপে বৃষ্টি নামায় ঠান্ডায় জমে যায় পাহাড়ি এলাকা। বিক্রি হতে শুরু করে ছাতা। পর্যটকেরা অসময়ে এমন তুষারপাত পেয়ে সান্দাকফু যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনও গাড়িই যেতে পারছে না। মানেভঞ্জন ল্যান্ডরোভার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন প্রধান জানান, সান্দাকফু সাদা ধবধবে হয়ে গেলেও এখানে এখন পর্যটক নেই। রাস্তাঘাট বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে টাইগার হিল থেকে জানা গেছে, সকালের দিকে এদিন সেখানে বেশ পর্যটক গিয়েছিলেন। তঁারা অবশ্য তুষারপাত দেখতে পাননি। দার্জিলিঙের দিলারাম, বাগুড়া, টুঙ, কালিম্পঙের বরুবাড়ি–সহ কিছু এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। এর জেরে রাস্তাঘাট বরফে ঢেকে যায়। শিলিগুড়িতেও এদিন সকাল থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়। হিমেল বাতাসের জেরে এখানেও ছিল প্রচণ্ড ঠান্ডা। মুষলধারায় বৃষ্টি হয়েছে রায়গঞ্জ, জলপাইগুড়ি–সহ গোটা ডুয়ার্সেই। লাগাতার বৃষ্টি ও নিম্নচাপে ফের জঁাকিয়ে শীত পড়েছে গোটা জলপাইগুড়ি–সহ উত্তরবঙ্গে। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি ও ধূপগুড়িতেও মুষলধারায় বৃষ্টি হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির ফলে রাস্তায় কোথাও কোথাও জল জমেছে।
এদিকে, দুপুরের পর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির এবং ঝোড়ো বাতাসের জন্য মানুষ আরও কম বেরিয়েছে রাস্তায়। জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হয়েছে কোথাও কোথাও। নিম্নচাপের প্রভাবেই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন। বুধবার সকালের দিকেও কোথাও কোথাও হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ অনেকটা পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top