দীপঙ্কর নন্দী
ঠিক ছিল আলো নিভিয়ে মোমবাতি জ্বলবে। পাশাপাশি এত বাজি পুড়বে, এত ফানুস উড়বে, কেউ কল্পনা করতে পারেনি। রবিবার রাত থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। সোমবার ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের নেতারা। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌মোদির চেয়েছিলেন, সব অন্ধকার হোক। মোমবাতি জ্বলুক। তাঁর চাওয়াকে ব্যর্থ করে বাজির উৎসব পালন করা হল। এই দুঃসময়ে যাঁরা বাজি পোড়ালেন, যাঁরা ফানুস ওড়ালেন, তাঁরা কোন ধরনের মানু্ষ!‌ করোনা মোকাবিলা না করে, আনন্দের সাগরে তাঁরা ভেসে গেলেন। এটা খুবই পীড়াদায়ক।’‌ প্রশ্ন উঠছে, এত বাজি কোথা থেকে এল। পার্থর বক্তব্য, ‘‌এবার কালীপুজোর সময়ে বৃষ্টি হয়েছিল। অনেকে বাজি পোড়াতে পারেননি। তাঁরা জমিয়ে রেখেছিলেন। ফানুসও জমিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ করোনা নিয়ে কাজ করছে। আর ঠিক সেই সময় সুযোগ বুঝে চারিদিকে বাজি পুড়িয়ে দেওয়া হল। প্রশাসন তো প্রস্তুতই ছিল না। তারা করোনা সামলাবে, নাকি ওদের আটকাবে।’‌
পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জির প্রতিক্রিয়া একটু অন্য ধরনের। তিনি বলেন, ‘‌যাঁরা বাজি পোড়ালেন, যাঁরা ফানুস ওড়ালেন, তাঁদের আমি দোষ দিচ্ছি না। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, কালীপুজোর সময় প্রদীপ জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বাজি পোড়ানো হয়। এখানেও তাই হয়েছে।’‌ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দোষারোপ করে সুব্রত বলেন, ‘‌তিনি যেদিন মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালানোর কথা ঘোষণা করলেন, সেই দিন কেন তিনি বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ করলেন না। তিনি যদি বলতেন, যাঁরা বাজি ফাটাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহলে, এটা হত না। যাঁরা জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়েছেন, তাঁরা এটা করতেই পারেন। বাংলায় এর কোনও গুরুত্ব নেই। আগেও এই ধ্বনি দেওয়া হয়েছে, মাঝে একটু বন্ধ ছিল, এখন আবার শুরু হয়েছে। কয়েকদিন পরেই আবার বন্ধ হয়ে যাবে।’‌ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুব্রতর প্রশ্ন এই সময়ে গবির মানুষদের জন্য কী ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তাঁরা কী খাবেন?
মেয়র ফিরহাদ হাকিম টুইট করে লিখেছেন, ‘‌ভারত–‌সহ গোটা বিশ্ব করোনা আক্রমণে দিশেহারা। প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।’‌ অসময়ে দেওয়ালি উদ্‌যাপনের জন্য ফিরহাদ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মেয়রের বক্তব্য, ‘‌শুধু সামাজিক দূরত্বই নষ্ট হল না, একইসঙ্গে পরিবেশও দূষিত হল।’‌ রবিবার রাতেই ট্যুইট করেছেন, তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি লিখেছেন, ‘‌যাঁরা পটকা, বাহারি প্রদীপ এবং ফানুস দিয়ে কোভিড–‌১৯–‌এর মতো বিশ্ব মহামারী উদ্‌যাপন করল, তাতে আমি চিন্তা করছি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কতজন লকডাউন ভাঙলেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার করা হল, নিজেকে বিচ্ছিন্ন কর, নিজেকে ধ্বংস কর।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top