সুনীল চন্দ, ইটাহার: ইটাহারের কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজেপি–‌র হয়ে ভোট প্রচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন ইটাহারের বিধায়ক তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্য। শুধু অমলবাবুই নন, অনেক বুথের সাধারণ ভোটাররাও এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। বিজেপি–‌র হয়ে প্রচার করেছেন, এমন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীদের নামও জানিয়েছেন অমল। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।
প্রসঙ্গত, বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রটি। মঙ্গলবার বিকেলে বিধায়ক বলেন, ‘‌ইটাহার বিধানসভা এলাকার অন্তত ৫–৬টি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বিজেপি–‌র হয়ে প্রচার চালিয়েছেন। এই ভোটকেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে কাপাসিয়া অঞ্চলের বীরনগর, কামালপুর, সুরুন ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেওটাল ইত্যাদি। বীরনগরে অশোক মিত্র নামে এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান নির্লজ্জভাবে খোলাখুলি বিজেপি–‌র হয়ে প্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগ অমলবাবুর। এ ছাড়াও ইটাহারের রানিপুরে ড.‌ মেঘনাদ সাহা কলেজে, যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের রাখা হয়েছিল, সেখানেও তাঁরা বিজেপি–‌র হয়ে প্রচার চালান বলে জানিয়েছেন তিনি।‌ কেবল বিজেপি–র হয়ে প্রচারই নয়, ভোটের লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের রীতিমতো শাসিয়ে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অমলের।
তৃণমূল জেলা সভাপতির আক্ষেপ, ‘‌ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ হয়, এ জন্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। অথচ, কেন্দ্রীয় বাহিনী পক্ষপাতিত্ব করেছে। নির্বাচন কমিশনের পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের অনেক বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’‌ তবু তিনি ইটাহারের মানুষকে শান্তিপূর্ণ ভোট করার জন্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এর পরেও ইটাহারে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ ৩০–৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে থাকবেন বলে দাবি অমলের। এদিন সকাল ৭টা নাগাদ অমলবাবু মেয়ে পূজা আচার্য এবং ভাই অলক আচার্যকে নিয়ে ভোট দেন তাঁর গ্রামের বাড়ি চাভোট প্রাইমারি স্কুল বুথে। ইটাহারের দৌলতপুর–সহ বেশ কিছু বুথে ইভিএম খারাপ থাকার কারণে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ থাকে। কোথাও দেরিতে শুরু হয় ভোট। বেকিডাঙা প্রাথমিক স্কুল বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক শেষ পর্যন্ত তুলে নেন এলাকার মানুষ। এখানে শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট হয় রাজ্য পুলিশের তত্ত্বাবধানেই।

জনপ্রিয়

Back To Top