আজকালের প্রতিবেদন- এতদিন ওঁদের শুধু দেখা যেত বাড়ি বাড়ি ঘুরে নবজাতককে নাচাতে ও আশীর্বাদ দিতে। ট্রেনের কামরায় উঠে বা ব্যস্ত রাস্তায় সিগন্যালে দাঁড়িয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেও দেখা যায় ওঁদের। ওঁরা বৃহন্নলা। কিন্তু এবার এই বৃহন্নলারাই ভোটদানে মানুষকে সচেতন করতে ঢোল নিয়ে প্রচারে নামতে চলেছেন। কেউ কেউ ওঁদের সঙ্গে মেলামেশা করেন। তবে বেশিরভাগই ওঁদের অন্য চোখে দেখেন। নাক সিঁটকান অথবা এড়িয়ে চলেন। বৃহন্নলারাও অবশ্য সমাজে ওঁদের এই অবস্থানটা জানেন। তাই সমাজের মূলস্রোতে মিশে যেতে ওঁদের মন চাইলেও, সেটা হয়ে ওঠে না। এবার দেশের গণতন্ত্রের সব থেকে বড় উৎসব লোকসভা ভোট দোরগোড়ায়। আর সেই উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য ওঁদেরও ডা‌ক পড়েছে। এই প্রথম প্রশাসনের তরফে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে ওঁদের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। তাই লোকসভা নির্বাচনে শুধু ভোটই নয়, মানুষকে ভোট নিয়ে সচেতন করতেও ওঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরবেন বলে ঠিক করেছেন। প্রতিটি ভোটার যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন, তার জন্য ঢোল বাজিয়ে মানুষকে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করবেন। অনেকটা আগের যুগে রাজাদের ‌ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে প্রচারের মতোই।
রুমা, লতিকাদের কথায়, প্রতিদিনই রুটিরুজির টানে আমাদের গ্রামে গ্রামে ঘুরতে হয়। মানুষের সঙ্গে কথাবার্তাও বলতে হয়। সেই সুবাদে বিভিন্ন এলাকায় ওঁদের ভালই পরিচিতি রয়েছে। তাই ভোটদানের প্রচারে তাঁরা ভাল কাজই করবেন বলে আশা বৃহন্নলাদের। ক্যানিং থেকে বারুইপুর— সব জায়গাতেই বৃহন্নলাদের মহল্লা রয়েছে। ইতিমধ্যে সেই সব মহল্লাতে গিয়ে প্রশাসনের তরফে ভোট নিয়ে সচেতনতা শিবির ও হাতেকলমে ভোটদান প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে। মল্লিকপুরের বৃহন্নলা মহল্লার বাসিন্দা বৃষ্টি আনসারি জানান, তিনি এবার নতুন ভোট দেবেন। শুধু ভোট দেওয়া নয়, দেশের হয়ে ভোটের কাজেও অংশ নিতে চান তাঁরা। নির্বাচন কমিশনের তরফে আধিকারিকরা জানান, বৃহন্নলাদের ভোটদানের প্রচারে কাজে নামানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

ভোটদানের প্রচারের প্রশিক্ষণে বৃহন্নলারা। ছবি:‌ গৌতম চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top