দীপঙ্কর নন্দী: প্রায় ১২ বছর বরকত গনি খান চৌধুরির সেবা করে কংগ্রেস থেকে কিছুই পাননি। এবার গনি খানের ভাই ডালুবাবুর বিরুদ্ধে প্রার্থী বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে হেরে যান। মালদায় সেই সময় তৃণমূল শক্তিশালী ছিল না। ধীরে ধীরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সংগঠন শক্তিশালী করেছেন। মোয়াজ্জেমের ওপর ভরসা করে দায়িত্বও দিয়েছেন। 
বয়স ৬১। আদি বাড়ি মালদার বৈষ্ণবনগরে। কলকাতায় সল্টলেকে বাড়ি আছে। বি আর সিং হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান ছিলেন। রাজনীতির জন্য স্বেচ্ছা অবসরে। স্ত্রী কলকাতার লোরেটো স্কুলে চাকরি করতেন। তিনিও চাকরি ছেড়েছেন। কার্শিয়াঙে ডাউহিল স্কুলে পড়েছেন। আপাতত কার্শিয়াঙে থাকেন। দু’‌জনের দেখা হয় কম। ফোনেই কথাবার্তা। এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক।  লিভারপুলে একটি হাসপাতালে ছেলে। স্কুল শেষ করে মোয়াজ্জেম চলে আসেন কলকাতায়। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও চিত্তরঞ্জন সেবা সদন থেকে ডাক্তারি পাশ করেন। শুরু করেন প্র‌্যাকটিস। চাকরি পান বি আর সিং হাসপাতালে। 
ডালুবাবুর বিরুদ্ধে প্রার্থী মোয়াজ্জেম বললেন, ‘‌২ লক্ষের বেশি ভোটে জিতব। দ্বিতীয় হবে বিজেপি। সাংসদ হয়ে ডালুবাবু এলাকায় কোনও কাজ করেননি। কালিয়াচকে প্রচারে ঢুকতে পারছেন না। মানুষ অসন্তুষ্ট। উন্নয়ন করেছেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর নামেই ভোট হচ্ছে। আমরা তাঁর সৈনিক। তিনি সুপারওম্যান। স্মরণশক্তি প্রখর। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে বাংলায় রয়েছেন। বিজেপি শান্ত বাংলাকে অশান্ত করতে চাইছে।’‌ তাঁর দাবি, ‌এলাকায় গরুপাচার, নারীপাচার তিনি রুখতে পেরেছেন। কাজ করতে গিয়ে অনেক বাধা পেয়েছেন। মোয়াজ্জেম বললেন, ‘মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করছি। আমার কাছে সকলেই সমান।’‌ মালদায় মুখ্যমন্ত্রী বিশাল পদযাত্রা করে মোয়াজ্জেমের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাঁটতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। 
বেড়াতে ভালবাসেন মোয়াজ্জেম। সঙ্গী স্ত্রী। বিশ্বের বহু জায়গায় ঘুরেছেন। হজে দু’‌বার গেছেন। মন্দির, গির্জাও তাঁর প্রিয় দর্শনীয় স্থান। মায়াপুর ইসকনে এক বছরের একটি কোর্স করেছেন। দক্ষিণেশ্বর মন্দির বহুবার দেখেছেন। বি আর সিং হাসপাতালে ডাক্তারদের আবাসনে দুর্গাপুজোর দু’‌বার সম্পাদক হন। বাংলাদেশেও একবার বেড়াতে গিয়েছিলেন। 
জ্যোতিষশাস্ত্র খুব একটা বিশ্বাস না করলেও তাঁর সিংহ রাশি। মোয়াজ্জেম মনে করেন, সিংহ রাশির মানুষজন দরাজ হন। জানালেন, ‘‌ঈশ্বরের ওপর আমার ভরসা আছে। জেতাবেন তিনি।’‌ ফুটবল ভালবাসেন। নিজেও গ্রামে ফুটবল খেলতেন। সেই সময় গ্রামে ক্রিকেটের চল ছিল না। বি আর সিং হাসপাতালে থাকাকালীন বহু মায়ের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এখন ট্রেনে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেকের মুখেই শুনতে হয়, ডাক্তারবাবু, আপনার হাতে আমার ছেলে হয়েছে। কেউ বলেন, আপনার হাতে আমার নাতনিও হয়েছে। বললেন,‘‌ ওদের কথা শুনে মন ভরে যায়। শুধু ভাবি, এতদিন পরেও ওরা আমাকে মনে রেখেছে। এটাই আমার পুরস্কার।’‌ 
ভোজনবিলাসী ছিলেন। খাওয়া কমিয়েছেন। মাংস প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। বড় মাছ খাওয়া হয় না। ডিমের ওমলেট প্রিয়। মাশকলাইয়ের ডাল, বড়ি দিয়ে তরকারি, ছোলাশাক, মটরশাক, কলমীশাক, পালংশাক বেশি করে খান। রুটি–বেগুনের ভর্তা হলে আর কিছু দরকার হয় না মোয়াজ্জেমের। মনে হয়, অমৃত খাচ্ছেন। পেঁয়াজ দিয়ে ইলিশ মাছের ঝোল খেতে খুব ভালবাসেন।  
মালদায় সংখ্যালঘুদের জন্য প্রচুর কাজ করেছেন তিনি। নির্বাচিত হলে আরও কাজ করবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে পরামর্শ করে মালদাকে নতুনভাবে সাজানোর ইচ্ছে আছে। কালিয়াচকে দুটি বিদ্যুৎচুল্লি করেছেন। মোয়াজ্জেমের বক্তব্য, ‘‌মমতার আশীর্বাদ খুব কম লোকই পায়। আমি পেয়েছি।’‌‌‌‌‌‌

 

 

প্রচারে মোয়াজ্জেম হোসেন।

জনপ্রিয়

Back To Top