আজকালের প্রতিবেদন: উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির আলোচনায় উঠল উচ্চশিক্ষায় নতুন বিধির প্রসঙ্গ। নতুন এই বিধির ফলে তাঁদের ক্ষমতা বাড়ল বলে উপাচার্যদের আশ্বস্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। ৩ ও ৪ এপ্রিল বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে এডুকেশন ফেয়ার বা শিক্ষামেলা হবে বলেও জানান তিনি। উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
শুক্রবার উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। নতুন বিধির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গটি তোলেন উপাচার্যদের মধ্যে কয়েকজন। সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নতুন বিধির ফলে আপনাদেরই ক্ষমতা বেড়েছে। হাত শক্ত হয়েছে।’‌ স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ না করা নিয়েও আশ্বস্ত করেন তিনি।‌ মঙ্গলবারই বিধানসভায় উচ্চশিক্ষার নতুন বিধি পেশ হয়েছে। নয়া বিধি অনুযায়ী সমাবর্তনের বিষয়ে এখন উচ্চশিক্ষা দপ্তরকেই সব জানাবেন উপাচার্যরা। দিন–‌সহ কাদের সাম্মানিক ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে, তার তালিকাও পাঠাতে হবে। নতুন বিধি বলবৎ হওয়ার পর যে–‌কারণে স্থগিত হয়ে গেছে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। সামনেই, ২৪ ডিসেম্বর রয়েছে যাদবপুরের সমাবর্তন। এদিনের বৈঠকে এক উপাচার্য প্রসঙ্গটি তোলেন। আলোচনাও হয়। পরে এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌বিধিটি সম্পর্কে উপাচার্যদের অবহিত করা হয়েছে। প্রত্যেককে একটি করে বিধির প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে। সমাবর্তন নিয়ে বিধিতে যা রয়েছে, সেটাই বলা হয়েছে। আলাদা করে কিছু বলা হয়নি।’‌ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন যেহেতু বিধি পেশের আগেই ঠিক হয়েছে, তাই এ–‌ক্ষেত্রে কী হবে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।’
শিক্ষা মেলা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌এই মেলায় প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল থাকবে। কী কী কোর্স পড়ানো হয়, কী সুযোগ–সুবিধা রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তা জানাবে। আটটি টেকনিক্যাল সেশন‌ থাকবে। দেশের বাইরে থেকেও বিষয়–বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশিষ্টজনদের আনা হবে। উত্তরবঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে নিয়ে একটি ক্লাস্টার বা গুচ্ছ এবং বঁাকুড়া, পুরুলিয়া, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আরেকটি গুচ্ছ করা হবে।’‌ মেলাটি হবে মূলত উচ্চশিক্ষা–‌কেন্দ্রিক। কিন্তু যে–‌কোনও এক দিন স্কুলশিক্ষাকে এর সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও ভাবা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।এদিনের বৈঠকে সিবিসিএস পদ্ধতির সমস্যা, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর শূন্য পদে নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের বেতন বৃদ্ধি, কলেজে ছাত্র–‌ভোট ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা হয়। সিবিসিএস পদ্ধতি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে ফের আলোচনা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। প্রফেসর পদে সংরক্ষিত আসনে যোগ্য ব্যক্তি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান উপাচার্যরা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

‘নির্মল বিদ্যালয় অভিযান ২০১৯’‌–‌এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি, ইউনিসেফের শিক্ষা বিভাগের প্রধান টেরি গ্লেন ডার্নিয়ান। রবীন্দ্র সদনে, শুক্রবার। ছবি:‌ বিজয় সেনগুপ্ত ‌‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top