আজকালের প্রতিবেদন: পরীক্ষা নিয়ে ইউজিসি–‌র নতুন নির্দেশিকার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা হবেও বলে জানান তিনি। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের ফাইনাল সেমেস্টার বা চূড়ান্তবর্ষের পরীক্ষা নিতেই হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (‌‌ইউজিসি)‌‌। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের চূড়ান্ত বর্ষ বা সেমেস্টারের পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নিতেই হবে বলে সোমবারই নির্দেশিকা জারি করেছে ইউজিসি। এ নিয়ে রাজ্য সরকার কী করবে প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা আমাদের অ্যাডভাইজরি আগেই পাঠিয়েছি। নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে কথা বলেই নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যা বলবে সেই মতোই কাজ হবে। এ ব্যাপারে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে নিশ্চয়ই কথা বলব। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলব। আমরা ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের জীবন বাঁচানো। যে অ্যাডভাইজরি পাঠানো হয়েছিল সেই অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পদক্ষেপ করেছে এবং করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপরই পুরো বিষয়টা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’‌
প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসে ইউজিসি–‌র নির্দেশিকাতেও ফাইনাল সেমেস্টার ও চূড়ান্তবর্ষের পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু গোটা দেশ জুড়ে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক রাজ্যই চূড়ান্ত স্তরের এই পরীক্ষা বাতিল করে। রাজ্য সরকারও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে যে ‘‌অ্যাডভাইজরি’‌ পাঠিয়েছে তাতে পরীক্ষা না নিয়ে পড়ুয়াদের ৮০–২০ শতাংশের ফর্মুলায় ডিগ্রি দেওয়ার কথা বলা হয়।  এই ‘‌অ্যাডভাইজরি’‌ মেনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি  সেইমতো রেজাল্ট তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফাইনাল সেমেস্টারের পড়ুয়ারা হোম অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে জমাও দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা আর হবে না, এটা যখন একপ্রকার নিশ্চিত, তখন ইউজিসি–‌র নতুন নির্দেশিকা ঘিরে ফের জট তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কী করা উচিত তা যেমন বুঝে উঠতে পারছে না, তেমনি লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীও চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ইউজিসি–‌র নির্দেশিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপাচার্য পরিষদের সম্পাদক এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‌সুপ্রিম কোর্ট যেখানে জুলাই মাসে আইসিএসই, সিবিএসই পরীক্ষা বাতিল করল, সেখনে ইউজিসি কী করে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলে?‌ দেশে প্রতিদিন ২৫ হাজারের মতো মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজ্যেও সংখ্যাটা কম নয়। কোনও বিশেষজ্ঞই বলতে পারছেন না কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না–‌ও হতে পারে। যদি সেপ্টেম্বরে পরীক্ষা হয়ও, ফল প্রকাশ হতে ডিসেম্বর। যে পড়ুয়াটি চাকরি পেয়ে গেছেন, বা বিদেশে যাবেন, তাঁর পক্ষে কী ততদিন অপেক্ষা করা সম্ভব?‌’‌  
নতুন নির্দেশিকায় ইউজিসি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে চূড়ান্ত বর্ষ এবং সেমেস্টারের পরীক্ষা নিতে হবে। তবে অনলাইন অথবা অফলাইন অথবা দু‌য়ের মিশেলে এই পরীক্ষা নেওয়া যাবে। ‘‌ব্যাক’‌ রয়েছে এমন পড়ুয়াদেরও এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিতে হবে। ফাইনাল বর্ষ বা সেমেস্টারের কোনও পড়ুয়া  সেপ্টেম্বরে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার জন্য পরে বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, তাঁদের কেরিয়ার, দেশ–বিদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা যাতে এতটুকুও না কমে সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে ইউজিসি। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পরীক্ষা নেওয়ার এই নির্দেশিকা প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top