‌বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর , ১১ ফেব্রুয়ারি- দুষ্কৃতীদের আক্রমণ কেশপুরের কোনার গ্রামে প্রাণ হারালেন তৃণমূলের এক কর্মী। জানা গেছে, জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে সঙ্ঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। এই ঘটনায় এলাকার প্রাক্তন তৃণমূলের বুথ সভাপতি অজিত পণ্ডিত–সহ তঁার পরিবারের তিন সদস্য আহত হন। তঁাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই মারা যান তৃণমূল কর্মী নন্দ পণ্ডিত (৪৩)। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন। 
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। তৃণমূল কর্মী খুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু তৃণমূল কর্মী, সমর্থক জড়ো হন কোনার গ্রামে। তঁারা দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। ঘটনার পিছনে রাজনীতি রয়েছে বলে একাংশের অভিযোগ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কেশপুর থানার পুলিশ। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত খুনের রাজনীতিতে খবরের শিরোনামে এসেছিল কেশপুর। খুন, লুটপাট, বাড়ি ভাঙচুর লেগেই থাকত। ভেঙে পড়েছিল আইনের শাসন। লাগাতার খুন, সন্ত্রাসের জেরে কয়েক হাজার মানুষ মাসের পর মাস ধরে ঘরছাড়া হয়েছিলেন। এক সময়ে সিপিএমের লাল দুর্গ বলা হতো কেশপুরকে। কিন্তু রাজ্যের ক্ষমতায় তৃণমূল আসার পর কেশপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আগের মতো আর যখন–তখন খুনের ঘটনা ঘটেনি বলে স্থানীয়রাই জানিয়েছেন।
কেশপুরে তৃণমূল ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পান বলেন, ‘‌লোকসভা ভোটের আগে কেশপুরেও বিভেদকামী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তৃণমূল উন্নয়নের মাধম্যে মানুষের মন জয় করেছে। মানুষও তৃণমূলের উন্নয়ন বুঝতে পারছেন। তঁারা তৃণমূলের পাশেই রয়েছেন। এই বিষয়টি বিরোধীদের কাছেও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তাই বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকেরা গোলমাল পাকাতে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করছে। প্ররোচনা দিচ্ছে। কোনার গ্রামে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গোলমাল চলছিল। দুই পক্ষের দাবি, জমি তঁাদের। এ নিয়ে কয়েকবার আলোচনাও হয়। এরপরও সমস্যা মেটেনি। এরই মধ্যে রবিবার রাতে দুই পক্ষ একে অপরের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।’‌

নিহত নন্দ পণ্ডিতের দেহ। ছবি: স্বরূপ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top