যজ্ঞেশ্বর জানা,কাঁথি: মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে বাস দুর্ঘটনার জেরে, রাজ্যের সর্বত্র দুর্ঘটনায় রাশ টানতে তৎপর পুলিস-প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুরেও বাস মালিক সংগঠন ও চালকদের ডেকে দফায় দফায় বৈঠক করেছে প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, গাড়ি চালানোর সময় কোনও ভাবেই চালক ব্যবহার করতে পারবেন না মোবাইল ফোন। নিষিদ্ধ করা হয়েছে বাস-ট্রেকারের ছাদে যাত্রী পরিবহণ। এর জন্য বাসের ছাদে ওঠার সিঁড়িও খুলে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তউ প্রশাসনিক এই নির্দেশ আদৌ মানা হচ্ছে কি? ‌রাস্তাঘাটে কিন্তু দেখা যাচ্ছে,  হুঁশ ফেরেনি চালকদের। নজরদারি নেই পুলিসেরও। তাই ট্রেকার কিংবা বাসের ছাদে লোক উঠছে আগের মতই। মঙ্গলবার দুপুরে কাঁথির বিভিন্ন রাস্তায় দেখা গেল, বিভিন্ন রুটের বাস কিংবা ট্রেকারের ছাদে তোলা হচ্ছে যাত্রীদের। ট্রেকারগুলিতেও রীতিমতো বাদুড়ঝোলা হয়েই সফর করছেন যাত্রীরা। এর ওপর অধিকাংশ গাড়ির টায়ারে তাপ্পি মারা। কোনও কোনও বাস বা ট্রেকারের চাকা একেবারে মসৃণ। কাঁথির অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘‌বৈঠক ডেকে আমরা মালিক, চালকদের আগে সতর্ক করেছি। এরপর  পথে নামবো। চালকেরা কেউ মোবাইল ব্যবহার যাতে না করে, ছাদে যাতে যাত্রী পরিবহণ না হয় সেজন্য নজরদারি চালানো হবে। ধরা পড়লে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’‌ কাঁথির জুনপুট মোড়, রসুলপুর মোড়, দিঘা বাইপাস মোড়, সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিনই যাতায়াত করে একাধিক বাস, মিনিবাস ও ট্রেকার। যাত্রীদের অভিযোগ, সমস্ত রুটের বাসই ছাড়ার পরে ধীরগতিতে চলে। পিছনে কোনও বাস এসে গেলেই শুরু হয় বেপরোয়া রেষারেষি। পাশাপাশি মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাস চালানোটাও চালকদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীরা বারণ করলেও তাঁরা শোনন না। এ বিষয়ে কাঁথির ট্রাফিক পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘‌দুর্ঘটনা ঠেকাতে শুধু প্রশাসনের ওপর ভরসা করলে হবে না। সব সবসময় নজরদারি কিংবা ধরপাকড়ও করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে চালকদের হঠকারিতা দূর করতে হবে। বুঝতে হবে কত মানুষের প্রাণের দায়িত্ব নিয়ে ওঁরা বাস চালান। তবেই সম্ভব হবে দুর্ঘটনামুক্ত যান চলাচল।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top