আজকালের প্রতিবেদন: ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। এর ফঁাদ থেকে বাঁচতে হলে নিজের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিজেকেই গড়ে তুলে হবে। বৃহস্পতিবার ‘‌সাইবার নিরাপত্তা:‌ সমস্যা ও সুযোগ’‌ বিষয়ে চিভেলিং অ্যালামনি ইন্ডিয়া বক্তৃতায় একথা বলেন সাইবার পিস ফাউন্ডেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল অ্যান্টি হ্যাকিং গ্রুপের প্রেসিডেন্ট বিনীত কুমার। টেকনো ইন্ডিয়া কলেজ অফ টোকনোলজি ও কলকাতার ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশন যৌথভাবে এই বক্তৃতার আয়োজন করেছিল। মানব কল্যাণে সাইবার ব্যবহার নিয়ে কাজ করার জন্য অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন বিনীত। নিউ টাউনের টেকনো ইন্ডিয়া কলেজ অফ টেকনোলজিতে এদিন বক্তব্য পেশ করে তিনি বলেন, সারা দেশে দ্রুতগতিতে বাড়ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। শুধু শহর নয়, গ্রামগঞ্জের মানুষও আজ ইন্টারনেটে ব্যবহারে অভ্যস্ত। তার সুযোগ নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। তাদের ফঁাদে পা দিচ্ছে মানুষ। অজ্ঞতা, অপরিচিতকে বিশ্বাস, বিনা পয়সায় সুযোগ পাওয়ার হাতছানি প্রভৃতি এর কারণ। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, এটিএম—‌ অসর্তক হলে ইন্টারনেটে যুক্ত যে কোনও জিনিস থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সাইবার অপরাধীদের কাছে চলে যেতে পারে। খোয়াতে হতে পারে অর্থ। অন্য সমস্যায় পড়তে পারেন তিনি। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে আরও সচেতন হওয়া জুরুরি। তথ্য চুরি রুখতে আধুনিক স্মার্ট, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নিয়মিত আপডেট করা জরুরি। বিনা পয়সায় পাওয়া গান, চলচ্চিত্র ডাউনলোড না করাই শ্রেয়। সেলফি থেকেও আসতে পারে নানা বিপদ। অচেনা মানুষের পাঠানো অ্যাপ্লিকেশনও ডাউনলোড না করার পরামর্শ দেন তিনি। চাকরি বা উপার্জনের প্রলোভন এড়িয়ে চলা উচিত বলে মত দেন তিনি। বিনীত বলেন, গত দশ বছরে বিশ্বে সাইবার অপরাধ 
২৪০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইবার আইন সম্পর্কে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব থাকায় আমাদের দেশেও অপরাধীদের কবলে পড়ছে অসংখ্য মানুষ। সোশ্যাল 
মিডিয়া অপরাধে ভারতের স্থান এখন বিশ্বে দ্বিতীয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হ্যাকাররা সক্রিয়। ব্যাঙ্ক, সরকারি গুপ্ত সংস্থাও হ্যাকারদের কবলে 
পড়েছে। হ্যাকার গোষ্ঠী মানেই অবশ্য মন্দ না। মানুষ ও সরকারের মঙ্গলের কাজেও যুক্ত আছে বেশ কিছু হ্যাকার গোষ্ঠী। অনুষ্ঠানে সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ নীরজ আগরওয়াল অপরিচিত মানুষকে নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। তরুণ–‌তরুণীদের তিনি বাড়ির লোকদের ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ দেন। পরে ছাত্র–‌ছাত্রীদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন বিনিত ও নীরজ। এদিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন টোকনো ইন্ডিয়া কলেজ অফ টেকনোলজির ডিরেক্টর আরটি গোস্বামী, কলকাতার ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনের ডেপুটি হেড অফ দ্য মিশন সাহিদা খান প্রমুখ।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top