আজকালের প্রতিবেদন, কাটোয়া: খুশিতে ভাসছেন নন্দন দত্ত। খুশিমুখ জয়ন্ত মণ্ডলেরও। কাটোয়ার নন্দনবাবু, কালনার জয়ন্তবাবু উত্তরবঙ্গে যাওয়ার জন্য কালনা–কাটোয়া দিয়ে যাওয়া ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়েই দার্জিলিং মেলের (ভায়া বর্ধমান) টিকিট কেটেছিলেন। হাওড়া–বর্ধমান মেন লাইনের দেবীপুর ও রসুলপুরের মধ্যে তিন নম্বর লাইন পাতার কাজ হওয়ায় এখন উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলি কাটোয়া–কালনা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাতেই পোয়াবারো নন্দনবাবু–জয়ন্তবাবুদের। এবার নিজের নিজের স্টেশন থেকেই ট্রেনে চাপতে পারবেন তঁারা।
অন্যদিকে, খুশি হারিয়ে গিয়েছে আসানসোলের সিদ্ধিনাথ গুপ্ত, বর্ধমান শহরের তিলক বটব্যালের মুখ থেকে। আপার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের টিকিট কাটা সিদ্ধিনাথ বা কবিগুরু এক্সপ্রেসের টিকিট কাটা তিলককে এখন মাঝরাতে কাটোয়া স্টেশনে গিয়ে ঘুরপথে যাওয়া ট্রেনে উঠতে হবে। শুধু সিদ্ধিনাথ–তিলকই নন, বর্ধমান দিয়ে যাওয়া উত্তরবঙ্গ বা বিহারগামী–সহ এক্সপ্রেস ট্রেনকে কাটোয়া দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ায় বহু যাত্রী চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। ১৬ আগস্ট থেকে হাওড়া–বর্ধমান মেন লাইনে সমস্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রসুলপুর ও দেবীপুর স্টেশনের মধ্যে কাজের জন্য। যঁারা বর্ধমান ও বোলপুর স্টেশন থেকে রিজার্ভেশন করেছেন, তঁাদের কাটোয়া ও আজিমগঞ্জ স্টেশন থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রেনে ওঠার কথা বলা হয়েছে। রেল ঘোষণা করেছে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। কিন্তু কাজ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ রেল আধিকারিকদেরই। কাটোয়ার স্টেশন ম্যানেজার অরূপ সরকারের কথায়, ‘যাত্রীদের সমস্যা হচ্ছে বুঝতে পারছি।’
রেল সূত্রের খবর, কাটোয়া স্টেশন থেকে ১৩১৩৩ আপ আপার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস রাত ১২টা ১৫ মিনিটে, ১২৩৪৩ আপ দার্জিলিং মেল রাত সাড়ে ১২টায়, ১৩০১৫ আপ ভাগলপুরগামী কবিগুরু এক্সপ্রেস বেলা ১টা ১৫ মিনিটে, ১৩০২৩ আপ হাওড়া–গয়া এক্সপ্রেস রাত সাড়ে ১০টায়, ১৩১১৯ আপ আনন্দবিহার এক্সপ্রেস রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ছাড়ছে। দার্জিলিং মেল (ভায়া আজিমগঞ্জ) ছাড়া বাকি ট্রেনগুলিকে আমোদপুর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কাটোয়া স্টেশনে ট্রেন ধরতে যাত্রীরা রাত ৮টা ২৫– এর বর্ধমান থেকে ৩৫০২১ ইএমইউ লোকাল ধরে কাটোয়া আসছেন। কাটোয়া স্টেশনের আশেপাশে ভাল খাওয়ার জায়গা না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরা। যদিও মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে স্টেশনে স্টেশনে মাইকিং করে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, বর্ধমান থেকে মেমারি হয়ে ব্যান্ডেল, হাওড়া যাওয়ার লোকাল ট্রেন রয়েছে আধঘণ্টা অন্তর। লোকাল ট্রেন বন্ধ হওয়ায় মেমারি, মশাগ্রাম, জৌগ্রাম–সহ বিভিন্ন এলাকার নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত, চিকিৎসা পরিষেবা নিতে বর্ধমান যাওয়া যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন। এই সুযোগে বাস মালিকদের পোয়াবারো। বাস মালিকদের কথায়, ৬৫ শতাংশ লোক আগের থেকে বেশি হচ্ছে।

জনপ্রিয়

Back To Top