Book: ফুটপাতে জনগণের জন্য ফ্রিজ বসিয়েছেন, এবার তৌসিফের লক্ষ্য বাস স্টপে বুক শেলফ

সব্যসাচী সরকার:‌ এবার তাঁর ইচ্ছে বাস স্টপে ছোট্ট একটি বুক শেলফ খোলার।

কারণ সামান্যই। বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। সেই সময় যদি দু’‌চারটে বই, ম্যাগাজিন রাখা যায়, তাহলে বাসযাত্রীরা অপেক্ষায় ক্লান্তি বোধ করবেন না। সেই উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর আশা, তাড়াতাড়ি করতে পারবেন।
কথা হচ্ছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাসিন্দা তৌসিফ রহমানের সঙ্গে। তৌসিফ ইতিমধ্যেই অনেক বড় বড় কাজ করেছেন। চলতি  মাসে তাঁর এক বছর পূর্ণ হল ৩৬৫ দিন গরিব মানুষকে টানা বিনামূল্যে অন্ন দান করেছেন। এহ্‌ বাহ্য বিভিন্ন সময় গরিবের হাতে চাল তুলে দিয়ে লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। ৪৯ হাজার কেজি (‌ছাপার ভুল নয়!‌) চাল বিতরণ করেছেন গরিব মানুষকে।
তৌসিফ রহমান নিজেকে পলিটিক্যাল স্ট্র‌্যাটেজিস্ট বলেন। সারা দিনই নিজের ব্যবসা সামলে আর মানুষের দুঃখ দুর্দশার জন্য দৌড়ে দিন শেষ হয়ে যায়। তার মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন ফোন আসা। ২৯ বছর বয়সেই তৌসিফ সংবাদ শিরোনামে। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে নিজের খরচে বসিয়েছেন ফুটপাতের ওপর ফ্রিজ। যাতে পথচলতি মানুষ ঠান্ডা জলে গলা ভিজিয়ে নিতে পারেন প্রবল গরমে। খুব সুন্দরভাবেই তাঁর এই কাজ চলছে। ফ্রিজের গায়ে লেখা বিনামূল্যে জল। বাংলা, হিন্দি, উর্দুতে লেখা এই কথা। এই দৃশ্য বড় সুন্দর। বাড়ি বাড়ি গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যান দাঁড় করিয়ে ফ্রিজ খুলে কয়েক ঢোঁক জল খেয়ে নিলেন। কেউ বা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে অবাকই হচ্ছেন ফুটপাতের ওপর ফ্রিজের জল!‌

 


তৌসিফ বলছেন, আমি সবাইকে বলেছি এই উদ্যোগ বাঁচিয়ে রাখা আপনাদের কাজ। তাঁর ইচ্ছে, আশপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য জলদান প্রকল্প করা।
করোনা কালে নিজের খরচেই অ্যাম্বুল্যান্স দিয়ে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। তাই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে পা ফেলে যে কেউ তৌসিফ রহমান বললে, আপনাকে তাঁর বাড়ি দেখিয়ে দেবে। কথায় কথায় বললেন, ‌পিজি, চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল, ইসলামিয়া হাসপাতালের সামনে ভাবছি এবার ফ্রিজ রাখব। গত এক বছর ধরে জোড়া গির্জার কাছে গরিব মানুষকে খাবার দিয়েছি। আমি ভাবি, কেউ যেন অভুক্ত না থাকে। আমি কোনও বিষয়েই রাজনীতি আসতে দেব না। অবশ্যই আমার একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে। জানা গেল, সেন্ট মেরিজ (‌রিপন স্ট্রিট)‌ স্কুলের প্রাক্তনী ভবানীপুর কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক হয়েছেন। রহমান গ্রুপের রেস্তোরাঁ তাঁদেরই পারিবারিক সম্পত্তি। কলকাতা, বাংলাদেশ, দুবাই— চলছে রেস্তোরাঁর কাজ। বাংলাদেশ, দুবাইয়ের কাজ সামলান তাঁর দাদা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটই তাঁর জন্মস্থান।
তৌসিফ বলছেন, আমি সমাজসেবা করছি, তার চেয়ে বড় কথা, আমি সমাজের পাশে আমার সামান্য সামর্থ্য নিয়ে দাঁড়াতে চাই। দেখাই যাক না কী হয়। তৌসিফ অনেক বড় ভাবেন।
তৌসিফের শখ?‌ হাসতে হাসতে বললেন, এই সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা। তবে হ্যাঁ, আমার একটা শখ আছে। বিভিন্ন ধরনের জুতো পরা। অক্সফোর্ড, ডার্বি, গুচি–‌সহ এই ধরুন চারশো জোড়া জুতো আছে আমার। তার অর্থ এই নয়, আমি ধর্মতলা থেকে জুতো কিনি না। পছন্দ হলেই জুতো কিনে ফেলি।
তৌসিফ চলছেন তাঁর নিজের আদর্শে। তাঁর পাশে আছেন বহু সাধারণ মুখ।         ‌  ‌

আকর্ষণীয় খবর