‌‌রিনা ভট্টাচার্য: ‌‌‌‌‌আসন্ন শারদোৎসবে ভিড় এড়িয়ে যাঁরা তর্পণ করতে চান বা প্রতিমা দর্শন করতে চান, তাঁদের জন্য মহালয়া থেকে বিসর্জন ঘিরে নানা প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করেছে রাজ্য পর্যটন দপ্তর। দেশ–বিদেশ থেকে আসা পর্যটক কিংবা রাজ্যের মানুষ প্রত্যেকেই এই প্যাকেজ ট্যুরে শামিল হতে পারেন। রীতিনীতি মেনে শান্তিতে মহালয়ায় পূর্বপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে চাইলে সে–ব্যবস্থাও করেছে পর্যটন দপ্তর। ২৮ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত তর্পণের আয়োজন করা হয়েছে। নিউ বাবুঘাট জেটি থেকে সকাল ৮টায় ভেসেল ছাড়বে। বিকেল ৩টেয় নিউ বাবুঘাটে ফিরিয়ে আনা হবে। ভেসেলের প্রত্যেককেই পুরোহিত দিয়ে নিয়ম মেনে তর্পণ করানো হবে। দুপুরে নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়া, কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরি দেখার পাশাপাশি বেলুড়মঠ দর্শনের ব্যবস্থা থাকছে প্যাকেজটিতে। ৮০ আসনের এই ভেসেলে আসন–পিছু খরচ পড়বে ১৬০০ টাকা। সঙ্গে জিএসটি।
চতুর্থীর দিন থেকেই প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা করে ফেলেছে পর্যটন দপ্তর। ‘‌উদ্বোধনী’‌ নামে এই প্যাকেজ ট্যুরে সারা রাত কলকাতার নামী ক্লাবের পুজোগুলি দেখানোর ব্যবস্থা থাকছে। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কলকাতার দক্ষিণ থেকে উত্তর ঠাকুর দেখানোর ব্যবস্থা হয়েছে। এসি ভলভো বাসে ঘোরার পাশাপাশি রাতে খাওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে। মাথাপিছু খরচ ১৮৫০ টাকা।
কলকাতা জুড়ে ঐতিহ্যময় বাড়িগুলির সাবেকি ঘরানার পুজো দেখানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নাম সনাতনী। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী সকাল–বিকেল দু’‌বেলাই এই প্যাকেজ ট্যুর থাকছে। সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা এবং দুপুর ২.‌৩০ থেকে সন্ধে ৬টা। খেলাত ঘোষ, জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়ি, শোভাবাজার রাজবাড়ি, ছাতুবাবু–লাটুবাবু, চন্দ্রবাড়ি, রানি রাসমণির বাড়ি এবং ঠনঠনিয়া দত্ত বাড়ির পুজো ঘিরে তৈরি করা হয়েছে এই প্যাকেজ ট্যুর। সকালে থাকছে সাবেকি জলখাবার। দুপুরে ভোগ। বিকেলে শুধুই স্ন্যাক্স। সকালের জন্য মাথাপিছু খরচ পড়বে ১৫০০ টাকা, বিকেলে ১১৫০। উত্তরা আর দক্ষিণী নামে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টে ‌৩০ মিনিট ঠাকুর দেখার আলাদা প্যাকেজ প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ সহযোগে। মাথাপিছু খরচ পড়বে ১৭০০ টাকা।
কলকাতার বাইরে জেলাগুলির সাবেকি রাজবাড়ির পুজো দেখতেও রয়েছে বিশেষ প্যাকেজ। ‘‌রাঢ়বঙ্গের পুজো’‌ এই প্যাকেজে বরশুল ও গুসকরার বিভিন্ন বাড়ির পুজো দেখানো হবে। কোনও একটি বাড়িতে ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। বরশুলের জন্য মাথাপিছু খরচ ২৪০০ টাকা, গুসকরার ২৫০০ টাকা। সকাল ৭টায় রওনা হয়ে সন্ধে ৭টায় ফেরা। বীরভূমের সুরুল রাজবাড়ির দুর্গোৎসবে শান্তিনিকেতনের ছোঁয়া দিতে রয়েছে বিশেষ প্যাকেজ। মাথাপিছু খরচ ২৬০০ টাকা। সকাল ৭টায় রওনা হয়ে ফেরা রাত ৮টার মধ্যে। 
হুগলির শ্রীরামপুরে গোস্বামী বাড়ি, হংসেশ্বরী মন্দির কিংবা গুপ্তিপাড়ার ৫৬২ বছরের পুরনো দুর্গোৎসবের স্বাদ পেতে থাকছে বিশেষ প্যাকেজ ‘‌হুগলি সফর’।‌ সকাল ৭টায় বেরিয়ে রাত ৮টা ৩০–এ কলকাতা ফেরা। মাথাপিছু খরচ ৩,১০০ টাকা। দশমীতে মায়ের বিসর্জন। ওইদিন বিষ্ণুপুরের রাসমঞ্চে বিজয়ার অনুষ্ঠানে শামিল হতে চাইলে রয়েছে ‘‌বিজয়া’‌। দু’‌রাত তিনদিনের এই প্যাকেজে বিষ্ণুপুর ছাড়াও জয়রামবাটি, কামারপুকুর, মুকুটমণিপুর ঘোরার ব্যবস্থা। মাথাপিছু খরচ ৫ হাজার টাকা। এই ট্যুরে পর্যটন দপ্তরের ৪টি বাস ছাড়াও পরিবহণ দপ্তর থেকে নেওয়া হবে ১৫টি। 
নিজেদের ক্রুজেও দুর্গাপুজোর আয়োজন করে পর্যটন দপ্তর। কেউ অষ্টমীর অঞ্জলি গঙ্গাবক্ষে এই ক্রুজে বসে দিতে চাইলে তৈরি পর্যটন দপ্তর। সপ্তমী থেকে নবমী— রীতি মেনে ক্রুজে পুজো হয়। ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। পাশাপাশি থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দুটি ক্রুজে একসঙ্গে এই আয়োজন চলে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা, সন্ধে ৬টা থেকে রাত ৯টা— দু’‌বেলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকে। সকালে মাথাপিছু খরচ ১৫০০ টাকা, বিকেলের ১৭০০। সন্ধে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা— গঙ্গায় ভাসতে ভাসতে বিসর্জন দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে। খরচ ৮০০ টাকা।
অনলাইনে বুকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ডালহৌসি এবং শিলিগুড়ির টুরিজম সেন্টার, রাজ্যের সব পর্যটন লজগুলিতেও বুকিং করা যেতে পারে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top