অমিতাভ বিশ্বাস, করিমপুর: সবুজ বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ নদিয়ায়। রীতিমতো ঘটা করে দেওয়া হল বট–পাকুড়ের বিয়ে।‌ একেবারে কাপড় পরিয়ে টোপর মাথায় দিয়ে। বিয়ে উপলক্ষে ছিল ভুরিভোজের আয়োজন। পাতপেড়ে খেলেন প্রায় হাজার খানেক মানুষ। মঙ্গলবার বিয়ের আসর বসেছিল নদিয়ার সীমান্তের হোগলবেড়িয়া হরিপুর গ্রামে। 
পাকা সড়কের পাশে মনসামন্দির। এই মন্দির লাগোয়া রয়েছে প্রাচীন একটি বটগাছ। দুর্গাপুজো ছাড়াও এই মন্দিরে সারা বছর ধরে কোনও না কোনও পুজো লেগেই থাকে। উৎসব উপলক্ষে এই গাছের তলায় মানুষ জমায়েত হন।  একদিন প্রবল ঝড়ে ভেঙে যায় বটগাছটি। সেদিন এলাকার প্রচুর মানুষ চোখের জল ফেলেছিলেন। বলরাম মণ্ডল নামে এক  গ্রামবাসী বলেন, ‘‌এলাকার মানুষের আবেগ জড়িত এই গাছটিকে ঘিরে। কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার পর বছর বৃদ্ধ বীরেন মণ্ডল নতুন করে বট ও পাকুড় লাগান। তখন তিনি ঠিক করেন পুরোহিত ডেকে নিয়মনীতি মেনে গাছের বিয়ে দেবেন। সেই কারণেই এদিনের এই বিয়ের আয়োজন।’‌ 
বীরেনবাবু বলেন, ‘‌গাছ হচ্ছে মানুষের প্রাণ। তাই যেদিন গাছটি ভেঙে পড়েছিল সেদিনেই আমার মনে হয়েছিল সবুজ নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে মানুষের ক্ষতি হওয়া। যে কারণে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিই। গাছের বিয়েতে আজ আমি পাত্রপক্ষ ও প্রতিবেশী ভগীরথ শর্মা পাত্রীপক্ষ। পুরোহিত ডেকে নিয়ম মেনেই এই বিয়ের সমস্ত আয়োজন করেছি। সোমবার অর্থাৎ বিয়ের আগের দিন গাছকে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানো হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। রহমান শেখ নামে এক উৎসাহী বলেন, ‘‌আমি এই অনুষ্ঠানে কাপড় দান করেছি। এখন সকলে মিলে গাছটি যাতে বড় হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখব।’‌ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনিতা মণ্ডল, কণিকা মণ্ডল, শেফালি মণ্ডলেরা বলেন, ‘‌রীতিনীতি মেনেই গাছের বিয়ে হচ্ছে । কাপড়–সহ বিয়ের সামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি এক হাজারের বেশি মানুষের জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। ভাতের সঙ্গে ছিল একটি তরকারি, ডাল, আলুভাজা, চাটনি ও পায়েস। গ্রামবাসীদের ধারণা এ ভাবে সবধর্মের মানুষ একত্রিত হয়ে গাছের বিয়ে দিলে সেই গাছ বাঁচবে বহুকাল। তার ডালপালা থেকে জন্ম নেবে আরও এনেক গাছ। এভাবে গাছের সংখ্যা বাড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। রামের মনোরঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘‌যেদিন আমাদের গ্রামের গাছটি ঝড়ে ভেঙে পড়ল। সেদিন এলাকার মানুষ প্রায় তিনদিন ধরে ভাঙা গাছ পাহারা দিয়েছিল। প্রথমত সরকারি জমির গাছ, আর তার থেকেও ধর্মীয় ভাবাগের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। তা ছাড়াও এলাকার অনেকেই এই গাছের তলায় ছোটবেলায় অনেক সময় কাটিয়েছেন।  
যে কারণে পুরনো গাছটির আদলে যাতে করে নতুন গাছটি বড় হয় সেজন্যই ঘটা করে বিয়ের আসর পাতা হয়েছিল।’‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top