অলক সরকার ও সঞ্জয় বিশ্বাস,শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং: পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রী এলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক জিএনএলএফ ও ‌জন আন্দোলন পার্টি (‌জাপ)‌–এর নেতারা। ইতিমধ্যে জাপ নেতা অমর লামা ও জিএনএলএফ নেতা অজয় এডওয়ার্ড এমন জানাতেই পাহাড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। কারণ এই দুটি দলই রাজ্যের শাসকদলের থেকে অনেকটা দূরে অবস্থান করছে। জিএনএলএফ রীতিমতো বিজেপি–র শরিক। জন আন্দোলন পার্টি খোলাখুলিভাবে রাজ্যের শাসকদলকে সমর্থন করে না। বিগত বিধানসভা উপনির্বাচনে জিএনএলএফ নেতাকেই প্রার্থী করেছিল বিজেপি। জাপ আলাদা প্রার্থী দিয়েছিল। অথচ সেই দুটি দলের নেতারা এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে চাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কি এনআরসি ইস্যুতে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণই বদলে যেতে শুরু করেছে?‌ এমনই জল্পনা পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে।
এমনিতেই রোজ বিজেপি, জিএনএলএফ ভেঙে মানুষ মোর্চার বিনয় শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, দার্জিলিঙে সাংসদ ও বিধায়ক বিজেপি–র হলেও সেই অর্থে পাহাড়ে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, এঁরা গোর্খা জনজাতিকে যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, এখন সে সব প্রতিশ্রুতির বিষয়ে নীরব থাকায় পাহাড়ের মানুষ এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ফলে বিজেপি–র শরিকদের মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে পাহাড়ে। এনআরসি করায় অসমের ১ লক্ষ গোর্খার নাম বাদ পড়েছে। এ নিয়ে খোদ বিমল গুরুং প্রতিবাদ করেছিলেন। ফলে নানাভাবে বিজেপি এখন কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। মনে করা হচ্ছে, জাপ, জিএনএলএফেরও মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থাকা প্রয়োজন। 
অমর লামা বলেন, আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে। চেষ্টা করব দেখা করার। অন্যদিকে ক’‌দিন আগেই জিএনএলএফের অজয় এডওয়ার্ড মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। এ সব থেকে অন্যরকম রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। 
এদিকে বিনয় তামাং এদিন জানান, ‘‌২০১৭ সালে ১০৫ দিনের বন্‌ধ, হিংসার সময় বিজেপি–র সাংসদ পালিয়ে ছিলেন। পাহাড়ের মানুষের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ের পরিস্থিতি শান্ত করতে সবরকম পদক্ষেপ করেন। পাহাড়ের উন্নয়নে প্রচুর প্রকল্প রূপায়ণ করেন জিটিএ–‌‌র সঙ্গে। ফলে বিজেপি–র আর স্থান নেই পাহাড়ে। সবাইকে রাজ্য সরকারের সাহায্যেই পাহাড়ে উন্নয়নের কাজে ঝাঁপাতে হবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top