কোভিডের দোহাই দিয়ে উপনির্বাচন না ঝুলিয়ে রাখে নির্বাচন কমিশন!‌ আশঙ্কায় তৃণমূল 

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কবে নির্বাচিত হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি?‌ পশ্চিমবঙ্গের দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন–সহ মোট চারটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন বাকি আছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন কবে দিন ঘোষণা করবে?‌ শাসক দল উত্তর খুঁজছে। মমতা যেমন ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে লড়বেন। ৫ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন মমতা। সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী ছ’মাসের মধ্যে তাঁকে বিধায়ক নির্বাচিত হতে হবে। মমতার ভবানীপুরে জয় নিয়ে সংশয় নেই কারও। কিন্তু উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা তো করবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের নেতাদের একটি অংশের আশঙ্কা, করোনা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে না নির্বাচন কমিশন অনির্দিষ্টকাল উপনির্বাচন ঝুলিয়ে রাখে। ৫ নভেম্বরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটে জিতে বিধায়ক হওয়ার শর্তপূরণ করতে হবে। 
করোনা সংক্রমণের কারণে বিধানসভা উপনির্বাচন না হওয়ার নজির বাংলায় রয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর প্রয়াত হয়েছিলেন ফালাকাটার তৃণমূল বিধায়ক অনিল অধিকারী। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে সেখানে দেড় বছর ভোট হয়নি। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভার ভোটে ওই আসনে জিতে বিধায়ক হয়েছেন বিজেপি-র দীপক বর্মন। এমন নজিরই তাই চিন্তায় রেখেছে তৃণমূল নেতৃত্বকে।
অক্টোবরে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে দেশে। বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। কমিশন যদি করোনার কারণ দেখিয়ে উপনির্বাচন স্থগিত করে রাখে, তা হলে মুখ্যমন্ত্রীকে বিকল্প পথ খুঁজে নিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। দলের নেতাদের বক্তব্য, সে ক্ষেত্রে মমতাকে মুখ্যমন্ত্রিত্বে ইস্তফা দিয়ে একদিন পর আবার শপথ নিতে হবে। প্রসঙ্গত নন্দীগ্রামে সামান্য ভোটে মমতা হেরে যান বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। 
মমতা ছাড়াও রাজ্য মন্ত্রিসভায় আরও দু’জন সদস্য রয়েছেন, যাঁদের আবার জিতে এসে মন্ত্রী থাকতে হবে। তাঁরা হলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ও কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শোভনদেব ভবানীপুর বিধানসভা থেকে জিতেও মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ওই কেন্দ্র ছেড়ে দিয়েছেন। দলও তাঁকে খড়দহ বিধানসভা থেকে প্রার্থী করার কথা জানিয়ে দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী অমিত উপনির্বাচনে সম্ভবত প্রার্থী হচ্ছেন না। জঙ্গিপুর ও সামশেরগঞ্জ আসনে প্রার্থীদের মৃত্যুর কারণে ভোট হয়নি। আর খড়দহ কেন্দ্রে বিজয়ী প্রার্থী কাজল সিনহা ফলাফল ঘোষণার আগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আবার সাংসদ থেকে যাওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তে দিনহাটা ও শান্তিপুর আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন বিজেপি–র নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার। তাই উপনির্বাচন হবে ওই দুই আসনেও।