TMC-MP: কল্যাণ ব্যানার্জিকে ‘‌ঘর শত্রু বিভীষণ’‌ বলে খোঁচা এই সাংসদের, কেন?‌

বিভাস ভট্টাচার্য: করোনা রোধে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির মন্তব্যের সমালোচনা করেন।

আর তার জেরে এবার নিজের জেলা হুগলিতেই দলীয় নেতৃত্বের রোষের মুখে পড়লেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। দলের আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার যেমন তাঁকে 'ঘর শত্রু বিভীষণ' বলেও কটাক্ষ করেছেন। তেমনি শ্রীরামপুরের বিধায়ক চিকিৎসক সুদীপ্ত রায় কল্যাণ ব্যানার্জির 'শুভ বুদ্ধির উদয় হোক' বলে মন্তব্য করেছেন। 
সরাসরি নাম না করেও ফেসবুকে শ্রীরামপুর সাংসদের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন তৃণমূলের যুব নেতারাও। 
করোনা সংক্রমণ আটকানো এবং সে প্রসঙ্গে অভিষেক ব্যানার্জি দু' মাস ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাবেশ বন্ধ রাখার স্বপক্ষে যে মত প্রকাশ করেছিলেন, বিতর্কের সূত্রপাত সেটা ঘিরেই। মন্তব্যটিকে নিজের 'ব্যক্তিগত' বলেও উল্লেখ করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু এই বিতর্ক দানা বাঁধে যখন শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, 'দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদটি সর্বক্ষণের। তাই এই পদে থেকে কারও ব্যক্তিগত মত থাকতে পারে না।' 
সাংসদের যুক্তি, অনেক বিষয়ে তাঁরও ব্যক্তিগত মত আছে। দলীয় শৃঙ্খলার কারণেই তিনি তা প্রকাশ্যে বলেন না। এটা মমতা ব্যানার্জির সরকারের বিরোধিতা করারই সামিল। এভাবে আসলে রাজ্য সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। 
এর পরেই আসরে নামেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন কুণাল এবং কল্যাণ। আসরে নামেন হুগলির অন্যান্য নেতা-নেত্রীরাও। এঁদের মধ্যে রয়েছেন আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। তিনি বলেন, কেন শ্রীরামপুরের সাংসদ দলের অভ্যন্তরে কথা না বলে বাইরে কথা বলছেন। সে প্রশ্ন তুলে কল্যাণকে ঘরের শত্রু বিভিষণ বলেও আক্রমণ করেন। একইভাবে শ্রীরামপুরের বিধায়ক চিকিৎসক সুদীপ্ত রায় করোনা সংক্রমণ রোধে অভিষেক ব্যানার্জির বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, কল্যাণ ব্যানার্জির শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।
 সিনিয়র নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের তরুণ প্রজন্মও ফেসবুকে অভিষেক ব্যানার্জিকে সমর্থন করে নাম না করে কল্যাণের সমালোচনা করেছেন। রাজ্য তৃণমূল যুবর সহ সভাপতি এবং হুগলি জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ  শান্তনু ব্যনার্জি ফেসবুকে মন্তব্য করেন, 'মানুষের আশীর্বাদ থাকলে কোনও অ-কল্যাণ কামী শক্তি কিছু করতে পারবে না।' শান্তনুকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, 'মনে রাখতে হবে দলের বিভিন্ন পদে থেকেই কিন্তু আমাদের লোকে চিনেছেন। সেই জায়গাটাকে আঘাত করা কেন? দলের সিনিয়র নেতারা যদি এটা করেন তবে জুনিয়ররা তাঁদের কাছে কী শিখবেন? কিছু বলার থাকলে সেটা আমরা দলের মধ্যেই বলব। কখনই প্রকাশ্যে নয়।'
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের আর এক যুব নেতা কুন্তল ঘোষ তাঁর ফেসবুক ওয়ালে অভিষেকের প্রশংসা করেন। নাম না করে কল্যাণের সমালোচনায় লেখেন, 'আজ মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথি। আজ সব অকল্যাণের বিসর্জন হবে তার সাথে জয় হবে ভারতের যুবরাজ অভিষেক ব্যানার্জির।' 
কথাটা যে তিনি কল্যাণ ব্যানার্জির উদ্দেশেই লিখেছেন সে বিষয়টি গোপন করেননি কুন্তল। তাঁর কথায়, 'কল্যাণ ব্যানার্জি একজন সিনিয়র নেতা। তাঁর কাছে এটা আমি আশা করিনি। তাই কথাটা আমি তাঁর উদ্দেশেই লিখেছি।' Aajkaal.in-এর তরফে এপ্রসঙ্গে কথা বলতে চেয়ে কল্যাণ ব্যানার্জিকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। কথা বলতে চেয়ে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলে কল্যাণ জানান, তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাবেন না।

আকর্ষণীয় খবর