যজ্ঞেশ্বর জানা, নন্দীগ্রাম: দল ও প্রশাসনের নিষ্কলঙ্ক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে নন্দীগ্রামে বড়সড় পদক্ষেপ করল তৃণমূল। নন্দীগ্রামে আমফান দুর্নীতি–কাণ্ডে দলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছে যাঁদের নামে নালিশ জমা পড়েছিল এবং তার তদন্তে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, শাস্তির কোপে পড়তে হয়েছে তাঁদের। নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধি মিলে নন্দীগ্রাম–১ ব্লকে ২৫ জনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। পদমর্যাদাও হারাচ্ছেন তাঁরা। ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির বৈঠকে মঙ্গলবার এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। 
এ ব্যাপারে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা সাংসদ শিশির অধিকারীর বক্তব্য, ‘‌দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অপরাধে এই শাস্তি। একজন পঞ্চায়েত প্রধান, ২ জন অঞ্চল সভাপতি, ২ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, ১০ জন পঞ্চায়েত সদস্য–সহ ২৫ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পদ ছাড়তে বলা হয়েছে ৩ নম্বর কেন্দামারি পঞ্চায়েতের প্রধান মানসুরা বেগম, কেন্দামারি ও ভেকুটিয়া অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি বনবিহারী পাল, পঙ্কজ দাস–সহ ৫ জনকে। এই দুই অঞ্চলের সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবু তাহের ও সরোজ ভুঁইয়াকে। দলের তোপের মুখে পড়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৩০ জন ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দিয়েছেন। দোষ স্বীকার এবং ক্ষমাপ্রার্থনা করায় বাকিদের সতর্ক করা হয়েছে।’‌
আমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে নন্দীগ্রামে ২০০ জনকে শোকজ করা হয়েছিল দলের তরফে। সোমবার জবাব দেন অভিযুক্তরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন বৈঠকে বসে ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটি। এ ছাড়াও ত্রাণে দুর্নীতি রুখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবে। কথা বলবে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে। সেক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতিপূরণ না পেয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top