‌‌নিরুপম সাহা, ‌বনগাঁ: পঞ্চম দফাতেই শেষ হয়েছে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। মানসিক চাপ মুক্ত এই কেন্দ্রের সব রাজনৈতিক দলের নেতারা। যদিও গণনা এখনও বাকি। তাই দায়িত্ব এখনও রয়ে গেছে। এখন তারই জোর প্রস্তুতি চলছে। সেই কারণে এখনই সম্পূর্ণ স্বস্তি মিলছে না দলের নেতা–কর্মীদের। 
বনগঁা লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতাবালা ঠাকুর একজন বিদায়ী সাংসদ। তার ওপর তিনি সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের একাধারে সঙ্ঘাধিপতি এবং অন্যদিকে বড়মার অবর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাও বটে। ফলে রাজনীতির বাইরে তঁার অনেক দায়িত্ব। বড়মা প্রয়াত হওয়ার পরে মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রতি তঁার দায়–দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে গেছে। ভোট মিটে গেলেও মতুয়া ভক্তরা আগেও যেমন ঠাকুর বাড়িতে আসা–যাওয়া করতেন, এখনও করছেন। তাদের কাছে মমতা ঠাকুরই এখন সবকিছু। ঠাকুরবাড়িতে এসে ভক্তরা বড়মাকে না পেয়ে বড়মার বড় বৌমা মমতাবালা ঠাকুরের কাছেই তঁাদের মনের কথা বলছেন। মমতা ঠাকুরও সাধ্য মতো ভক্তদের আবদার মেটাচ্ছেন। ভোট, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয় থেকে আপাতত নিজেকে একটু দূরেই রাখছেন তিনি।
এ ব্যাপারে তঁার বক্তব্য, ‘‌জেতার ব্যাপারে আমার একেবারে দুশ্চিন্তা নেই। কারণ, আমি জানি এবারেও আমি জিতব। ব্যবধান কতটা থাকবে, তা নিয়ে আমি ভাবিত নই।’‌ তাই এই অবস্থায় আপাতত সাংসারিক কাজ, ঠাকুরবাড়ি ইত্যাদি বিষয় নিয়েই মেতে রয়েছেন মমতাবালা ঠাকুর। এরই মধ্যে দু–দিনের জন্য কলকাতায় সাংসদ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাজ মিটিয়েও এলেন তিনি। বনগঁা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস বললেন, ‘‌নির্বাচন দপ্তর এবং আমাদের দলের কর্মীদের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকায় এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গণনার পরেও যাতে কোনও সন্ত্রাস না ছড়ায়, অশান্তির ঘটনা না ঘটে, সেইজন্য আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশ মেনে আমরা সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রেখে চলেছি। ভোটপর্ব সম্পূর্ণ মিটে যাওয়ার পরেও যাতে এলাকায় শান্তি বজায় থাকে, সেইজন্য আমরা সবসময় সচেষ্ট রয়েছি। ২০১১ সালের পর থেকেই আমরা এই দায়িত্ব পালন করে আসছি।’‌
মমতাবালা ঠাকুরের এবারের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন গোবরডাঙার তৃণমূল নেতা রাজীব দত্ত। ভোটদান পর্ব মিটে যাওয়ার পর তিনি এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন‌ ভোটগণনা নিয়ে। প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে হচ্ছে তাঁকে। গণনার দিন রাজনৈতিক দলগুলির কী ভূমিকা হবে, তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন নির্বাচন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকেরা। এ ব্যাপারে রাজীব দত্ত বলেন, ‘‌বনগঁা লোকসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে বনগঁা দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয়ে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ১৪টি টেবিল বসানো হবে। ২০ বা তার বেশিও রাউন্ড গণনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২৩ মে সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হলেও সরকারিভাবে সম্পূর্ণ ফল প্রকাশ হতে পরদিন সকাল হয়ে যেতে পারে। গণনার বিষয়ে নির্বাচন দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ফর্ম দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরাও দলের পক্ষ থেকে সব রকমভাবে প্রস্তুত।’‌
গণনা কেন্দ্রে দলের প্রতিনিধি হিসেবে কারা থাকবেন, তা নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে সব দলের মধ্যেই। গণনার দিন দলের প্রতিনিধিদের এবং তাঁর সঙ্গে নেতা, কর্মীদের কী ভূমিকা হবে, তা নিয়ে এই লোকসভা কেন্দ্রের অধীন ৭ বিধানসভার দায়িত্বে থাকা নেতা–কর্মীদের নিয়ে গোবরডাঙায় দলের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। গণনার দিন কার কী ভূমিকা হবে, তা সবিস্তারে বুঝিয়ে দেন তিনি। বারবার নেতা–কর্মীদের সতর্ক করে দেন বিরোধীদের কোনও প্ররোচনায় তঁারা পা না দেন।

জনপ্রিয়

Back To Top