দীপঙ্কর নন্দী: বিধানসভার তিন উপনির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ক্রমশই বাড়ছে। এখন পর্যন্ত যা অবস্থা তাতে তৃণমূল প্রচারে অনেক এগিয়ে। শুধু মাঠে–ময়দানেই নয়, তৃণমূলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করা হচ্ছে। ‘‌দিদিকে বলো’‌ ও ‘‌আমার গর্ব মমতা’‌ সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তৃণমূলের পক্ষে জয়ের ব্যাপারে মত দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ‘‌যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলার উন্নয়ন করছেন, তাতে মানুষ উপনির্বাচনে ফের সাড়া দেবেন।’‌ 
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস–‌সিপিএম জোট করে লড়াই করে। করিমপুর, কালিয়াগঞ্জ ও খড়্গপুরে এই ৩টি আসনে ফের জোট হয়েছে। তৃণমূল মনে করে এই জোটের ফলেই তাদের জয়ের পথ মসৃণ হবে। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস–‌সিপিএমের ভোট চলে গিয়েছিল বিজেপি–‌র দিকে। এবার সিপিএম, কংগ্রেস নিজেদের ভোট হয়তো ধরে রাখতে পারবে। লাভ হবে তৃণমূলের। 
২০১৬ সালে করিমপুর থেকে ৯০,৯৮৯ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র। লোকসভার সদস্য হওয়ায় তাঁর আসনে ভোট হচ্ছে। বিধায়ক থাকাকালীন মহুয়া এলাকার জন্য বহু কাজ করেছেন। নিয়মিত যেতেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখতেন। উপনির্বাচনে প্রচারের মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। দলে প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়। বিজেপি–র প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার, সিপিএম–এর গোলাম রাব্বি। এখানে  নদিয়া জেলার পর্যবেক্ষক রাজীব ব্যানার্জি–বহু মিটিং–‌মিছিল করেছেন। তৃণমূলের প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহরায়ের এলাকায় বিশেষ পরিচিতি আছে। কলকাতার মেয়র ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বৃহস্পতিবার করিমপুরে প্রচার করতে গিয়েছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে জোটের প্রার্থী ছিলেন সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি পেয়েছিলেন ৭৫ হাজার ভোট। বিজেপি–‌র প্রার্থী শুভাশিস ভট্টাচার্য পান ২৩,৩০২ ভোট। মহুয়া পেয়েছিলেন ৪৫.‌২%‌ ভোট। অঙ্কের হিসেবেও তৃণমূল অনেক এগিয়ে। এমন কিছু ঘটনা ঘটেনি যাতে তৃণমূলের ভোট কমে যেতে পারে। ‘‌দিদিকে বলো’‌ কর্মসূচি দলকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এলাকার মানুষের ক্রমশই আস্থা বাড়ছে। সরাসরি ফোন করে তাঁদের মধ্যে অনেকেই সুযোগ–‌সুবিধা পেয়েছেন। এলাকার নেতারা অভাব–অভিযোগ শুনে নিজেদের সাধ্যমতো কাজ করেছেন। সেই কাজে সন্তুষ্ট এলাকার মানুষজন। তৃণমূলের এক নেতা জানান, ‘‌বিজেপি উপনির্বাচনেও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। হিন্দু–‌মুসলিমদের মধ্যে ভাগাভাগি করছে। জেতার মানসিকতা নিয়ে তারা নামেনি। নেমেছে মমতার কুৎসা করতে। সিপিএমের পক্ষ থেকে তৃণমূল ও বিজেপি–‌কে আক্রমণ করা হচ্ছে। পাল্টা বলছে তৃণমূল। নেতারা বলছেন, ‘‌কংগ্রেস–‌সিপিএমের অস্তিত্ব নেই। বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। একটি ভোটও তাদের দেবেন না। উন্নয়নের পক্ষে রায় দিন।’‌ 
খড়্গপুরে নির্বাচনের মূল দায়িত্বে রয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দপ্তর সামলে তিনি নির্বাচনের কাজ করছেন। ঐক্যবদ্ধভাবে সকলে কাজে নেমেছেন। তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার নতুন মুখ নন। রাজনীতি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। জ্ঞান সিং সোহনপালকে হারিয়েছিলেন বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। লোকসভার সদস্য হয়ে যাওয়ায় দিলীপবাবুর আসনটি শূন্য হয়। জ্ঞান সিংও মারা যান। এখানে বিজেপি প্রার্থী প্রেমচন্দ্র ঝাঁ। দলের টিকিট না পেয়ে বিজেপি–র বিক্ষুব্ধ প্রার্থী দাঁড়িয়ে পড়েছেন। জোট হওয়ায় কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে এই আসনে। নাম চিত্তরঞ্জন মণ্ডল। প্রচার সেভাবে নেই। মাঝেমধ্যে বাম ও কংগ্রেস নেতারা খড়্গপুর যাচ্ছেন। একই মঞ্চে ওদের দেখা গেলেও সভায় কিন্তু ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিজেপি প্রার্থীর মুখেও তৃণমূলকে আক্রমণের সুর। পাল্টা জবাব দিচ্ছেন শুভেন্দু। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‌খড়্গপুর জিতবই।’‌ তৃণমূলের এক নেতা জানান, ‘‌দিলীপ ঘোষ যে ভোট পেয়েছিলেন এবার তাঁর দলের প্রার্থী সেই ভোট পাবেন না। তৃণমূল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিধায়ক থাকাকালীন এলাকার কোনও উন্নয়ন হয়নি। কলকাতায় টিভি চ্যানেলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দিলীপবাবু শুধু অপপ্রচার করে গেছেন। খড়্গপুর এলাকায় তৃণমূলের নেতারা শুধু সরকারের উন্নয়নই নয়, ‘‌দিদিকে বলো’‌ কর্মসূচিতে শামিল হয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করে চলেছেন। 
কালিয়াগঞ্জ থেকে জিতেছিলেন প্রমথনাথ রায়। তাঁর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হওয়ায় উপনির্বাচন হচ্ছে। প্রমথবাবুর মেয়ে ধীতশ্রী রায় কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন। তৃণমূলের প্রার্থী তপন দেব সিংহ। বিজেপি–র কমলচন্দ্র সরকার।  জোটের জন্য সিপিএম এখানে প্রার্থী দেয়নি। কংগ্রেসের নেতারা প্রচার করলেও হাওয়া এখনও তুলতে পারেনি। অথচ তৃণমূলের নেতারা প্রচার করে লোক টানতে পারছেন। তাঁদের সভায় ভিড় হচ্ছে। মমতার উন্নয়ন নিয়ে তারা প্রচার করছে বেশি। সতর্ক করে দিচ্ছেন বিজেপি সম্পর্কে।

জনপ্রিয়

Back To Top