আজকালের প্রতিবেদন, বসিরহাট: উৎসবের মেজাজে ভোট হল বসিরহাটে। বিরোধীদের কোনও ভবিষ্যদ্বাণী খাটল না। সকাল থেকে মানুষ সেজেগুজে বুথে গিয়ে ভোট দিলেন। সন্দেশখালি, হাসনাবাদ, হাড়োয়ার ভোট প্রক্রিয়া ছিল একেবারে শান্তিপূর্ণ। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। মানুষকে বুথে যেতে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিজেপি সমর্থকরা মিনাখাঁর মালঞ্চ কালীতলা, সন্দেশখালির ন্যাজাট রোডে শিরিষ তলায় অববোধ করে। অবরোধের খবর পেয়ে দু–জায়গাতেই বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসু ছুটে যান। পুলিস ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের আশ্বস্ত করে বুথে পাঠায়।
এদিন ভ্যাবলাতেই সায়ন্তন যখন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সন্ত্রাসের অভিযোগ করছেন, সেই সময় সিপিআই প্রার্থী পল্লব সেনগুপ্ত ওই পথে যাচ্ছিলেন। পল্লববাবু গাড়ি থেকে নেমে আসেন। সৌজন্যের মোড়কে রাম–বাম কার্যত এক হয়ে যায়। সায়ন্তনের সুরেই কথা বলেন সিপিআই প্রার্থী পল্লব সেনগুপ্ত। দু’‌জনের এক সুর, ‘‌মানুষ বুথে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিক।’‌ তঁাদের অভিযোগ, ‘‌এলাকায় ভোটারদের আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ভয়, ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা সেইসব এলাকায় গিয়ে মানুষের পাশে থাকছি। কমিশনের নজরেও আনছি।’‌ সায়ন্তন, পল্লব বলেন, ‘‌আমাদের একটাই দাবি, মানুষ ভোট যাকে খুশি দিক। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন খর্ব না হয়‌।’‌ এদিকে তৃণমূল নেতা ও নুসরত জাহানের চিফ ইলেকশন এজেন্ট সরোজ ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, ‘‌হাড়োয়ার  ১৬, ২৫, ৪৮, ১২৫, ২৫৬, ২৫৭ ও ২৫৮ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের প্রভাবিত করেছে বুথের ভেতরে।’‌
অন্যদিকে, হাড়োয়ার বকজুড়ি গ্রামের মাজমপুর প্রাথমিক স্কুলে ১৫ নম্বর বুথে আইপিএস অফিসার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ভোটারদের একটি বিশেষ দলকে ভোট দেওয়ার জন্য ভয় দেখাচ্ছিল। তার পরনে ছিল পুলিসের পোশাক। কঁাধে ৩ তারা, আইপিএস লেখা। টুপিতে অশোক স্তম্ভ। বুথের প্রিসাইডিং অফিসারের সন্দেহ হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ধৃতের নাম বাবলু আলি মিস্ত্রি। বাড়ি বসিরহাটের রাজেন্দ্রপুর গ্রামে।  ছবি: স্বদেশ ভট্টাচার্য

জনপ্রিয়

Back To Top