আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ঘূর্ণিঝড় ‘‌তিতলি’–তে পুরোপুরি বিপর্যস্ত ওড়িশা। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার বেগে তা আছড়ে পড়েছে পড়শি রাজ্যে। আর পশ্চিমবঙ্গে ‘‌তিতলি’–র প্রভাব সবচেয়ে বেশি হবে দুই জেলায়। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুর। এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ‌‌আগামী দু’‌দিন প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড় হয়ত সেভাবে প্রভাব ফেলবে না। বৃষ্টি চলবে পঞ্চমী পর্যন্ত, আকাশ পরিষ্কার হতে পারে ষষ্ঠী থেকে। এদিকে, ওড়িশায় ‘‌তিতলি’ আছড়ে পড়লেও তার প্রভাব পড়েছে দীঘাতেও। মৎস্যজীবীদের জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাঁদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান করতে মানা করা হয়েছে। বুধবার থেকেই দীঘা উপকূলে তীব্র জলোচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিও। বৃষ্টি হচ্ছে মালদা, পূর্ব বর্ধমান–সহ একাধিক জেলাতেই। শুধু কলকাতার পুজো নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে জেলার পুজোগুলিরও। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা এবং অন্ধ্রের উপকুলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় তিতলি। এই মুহূর্তে ঝড়টি ওড়িশা থেকে অন্ধ্রের উপকুলের দিকে ধেয়ে চলেছে। সকাল ৬.৩০টা নাগাদ তিতলি আছড়ে পড়ে ওড়িশা উপকুলে। ঘন্টায় প্রায় ১৭৫ কিমি বেগে আছড়ে পড়ে ঝড়টি। এই মুহূর্তে বাতাসের গতিবেগ প্রায় ১৫০–১৬৫ কিমি প্রতি ঘন্টায়। ‘‌ঘূর্ণিঝড় তিতলি’‌র প্রভাবে উত্তাল ওড়িশার গোপালপুর–সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে এই রাজ্যের গঞ্জাম, পুরি, খুরা, গোপালপুর–সহ মোট ৫ জেলায় জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। গতকাল রাত থেকেই বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে প্রায় ৩ লক্ষ বাসিন্দাকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও আপদকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রায় ১৫টির বেশী বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দলকে তৈরি রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রেন, স্কুল, বাজার। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই বাড়ির বাইরে বেরতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সমূদ্রের উপকূলে যাতে এই মুহুর্তে কোনও পর্যটক আসতে না পারে তার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দলের কর্মীরা কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি ‘‌তিতলি’‌র কারণে শুধু ট্রেন নয়, বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু বিমান। এর মধ্যে কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর এবং বিশাখাপত্তনমগামী বিমান বাতিল করা হয়েছে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top