গৌতম মণ্ডল,গঙ্গাসাগর: মেলা শেষের সুর গোটা সাগরতট জুড়ে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ সাগরমেলা ‌২০২০। বুধবার সন্ধের পর থেকে পুণ্যার্থীদের ভিড় নেই বললেই চলে। বুধবার দিনভর পুণ্যার্থীরা বাড়ি ফিরেছেন। রাতেও অনেক পুণ্যার্থী কচুবেড়িয়া থেকে মুড়িগঙ্গা নদী পার করেছেন। জেলা প্রশাসনের তরফে বৃহস্পতিবারের পর মেলা শেষের বার্তাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সাগরতট জুড়ে প্রচুর ফুল, পোড়া ধূপ, কাগজের প্লেট জড়ো হয়েছিল। এদিন সকাল থেকেই সাফাইকর্মীরা কাজে নেমে পড়েন। তঁাদের সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক পি উলগানাথন। তিনি সাফাইকর্মীদের উৎসাহ দেন। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু।
প্রত্যেক কর্মীকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সাগরতট পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন তিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তটকে আগের অবস্থায় ফিরে দেওয়ার কথা বলেন। এবারের মেলাকে প্লাস্টিকমুক্ত করার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা অনেকাংশে সফল হয়েছে বলে মনে করেন প্রশাসনের কর্তারা। অন্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন ছিল মেলা। এদিন জেলাশাসক পি উলগানাথন বলেন, ‘বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মাধ্যমে সাফাইয়ের কাজ হয়েছে। মেলা শুরুর আগে থেকে এই কাজ শুরু হয়েছিল। মেলা শেষেও চলবে সাফাই। সাগরে দুটি কঠিন তরল বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে এই বর্জ্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’‌
অন্যদিকে এবারের মেলায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের মাধ্যমে তঁাদের ঠাঁই হয়েছিল মেলার শিবিরে। তঁাদের মধ্যে আড়াই হাজার মানুষ ফিরে গেছেন। নিখোঁজের মধ্যে কিশোর থেকে বয়স্ক, সকলেই আছেন। তাঁদের কলকাতায় নিয়ে যাবে এক সংস্থা। রাখা হবে ধর্মশালায়। পরে ঠিকানা জোগাড় করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার নিখোঁজের সংখ্যা অনেক কম। মেলা থেকে এবার ফেরার পালা। এবারের মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে শনিবার। শুক্রবার ফিরবেন জেলাশাসকও।‌‌

সাফাই চলছে সাগরতটে। উপস্থিত মন্ত্রী সুজিত বসু ও অরূপ বিশ্বাস । ছবি:‌ প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top