সুপ্রতিম মজুমদার, উলুবেড়িয়া:‌ খেতে বসলে চোখের সামনে করোনা ও আমফান বিধ্বস্ত নিরন্ন অসংগঠিত শ্রমিক পরিবারগুলির কথা তাঁর মনে পড়ে যেত। তাই নিজের চাকরির বেতন থেকে খাদ্য সামগ্রী কিনে ৫০ টি অসংগঠিত শ্রমিক পরিবারের হাতে তুলে দিলেন বাগনান থানার সাব–ইন্সপেক্টর প্রণব সাহা। বাইনান গ্রামের ধর্মঘাটা এলাকায় বহু অসংগঠিত শ্রমিক পরিবারের বসবাস। করোনা এবং আমফান ঝড় এইসব পরিবারগুলির জীবনযাত্রার ছন্দ ছাড়খার করে দিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে তাঁদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। চাকরির সূত্রে সাব ইন্সপেক্টর প্রণববাবুকে প্রায়শই এলাকায় আসতে হয়। তিনি এখানকার মানুষদের যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখের দিকে তাকিয়ে তাঁদের মনের বেদনা অনুভব করেছেন। তখন থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন তাঁর বেতন থেকে পাওয়া অর্থের কিছুটা অংশ তিনি এইসব মানুষদের জন্য ব্যয় করবেন। সেইমতো শুক্রবার তিনি নিজে দোকান থেকে চাল, ডাল, আলু, তেল, মশলা ইত্যাদি কিনে আনেন। তারপর সেগুলি প্যাকেটে ভরে সোজা চলে যান বাইনানের ধর্মঘাটায়। নিজেই খুঁজে খুঁজে দুঃস্থ বাড়িগুলি থেকে মানুষজনদের ডেকে আনেন। তারপর তাঁদের সামাজিক দূরত্ব মেনে এক সারিতে দাঁড় করিয়ে প্রত্যেকের হাতে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেন। সেইসঙ্গে করোনা সংক্রান্ত বিধি–নিষেধের বিষয়ে এলাকার মানুষকে সচেতন করেন। তিনি জানান, এই মানুষগুলি করোনায় কাজ হারিয়েছেন। কেউ অর্ধাহারে আবার কেউ অনাহারে দিনযাপন করছেন। যখনই এদের কথা তাঁর মনে পড়েছে তখনই তিনি হৃদয়ে এক ধরনের বেদনা অনুভব করেছেন। এইসব মানুষদের কথা ভেবে তিনি নিজে মুখে ভাত তুলতে পারতেন না। তাই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানান, এখানেই শেষ নয়, এভাবেই তিনি এলাকার দুঃস্থ, অসহায় মানুষদের পাশে থাকতে চান। প্রণববাবুর এই মহানুভবতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বাগনান থানার আইসি থেকে শুরু করে সমস্ত পুলিশকর্মী। তাঁর আরেক সহকর্মী সাব–ইন্সপেক্টর বিশ্বরূপ দাস বলেন, ‘‌প্রণববাবুর মতো মানুষরা না থাকলে ‘‌‌মনুষত্ব’‌ কথাটা আভিধানিক অলংকার হয়েই রয়ে যেত। তিনি প্রণববাবুর এই কাজে গর্ব বোধ করছেন।’‌ এলাকার মানুষজনও প্রণববাবুর এই সহমর্মিতাকে ইতিমধ্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

 

ছবি: সুপ্রতিম মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top