আজকালের প্রতিবেদন, তমলুক: এ–‌ও এক অবাক জলপান। মুখ নয়, নাক দিয়ে জলপান করেন প্রৌঢ়। স্বাভাবিকভাবে এ দৃশ্য বিরল। আর বিরল এ ঘটনার খোঁজ মিলেছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার কুমোরআড়া গ্রামে। নাক দিয়ে জলপান করেন এ গ্রামের বাসিন্দা বছর বাহাত্তরের সুভাষচন্দ্র কুলভি। তা আবার এক, দু–দিন বা কয়েক মাসের অভ্যাস নয়, ২৩ বছরের অভ্যাস।
সাইনাসের সমস্যা থাকলে অনেকেরই নাক বন্ধ থাকে। বেশি সমস্যা অনুভব করলে সামান্য গরম জলে নুন মিশিয়ে নাক দিয়ে টানার অভ্যাস করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এই পদ্ধতিতে নাকের একপাশ দিয়ে জল টেনে অন্য পাশ দিয়ে বের করতে হয়। এতে নাকের মধ্যে জমে থাকা মিউকাস সহজেই বের হয়ে যায়। কিন্তু সুভাষবাবুর নাক দিয়ে জল টানার অভ্যাস ২৩ বছরের। নাক দিয়ে জলপান করলে শরীর–মন সুস্থ থাকে বলে জানান তিনি। এই অভ্যাস হওয়ার পর থেকে অর্থাৎ গত ২৩ বছরে একবারও জ্বর, সর্দি, কাশি হয়নি বলে তঁার দাবি। সুভাষবাবুর স্ত্রী–ছেলে এবং প্রতিবেশীরাও মানছেন সে কথা। যদিও এমন অবাক জলপানের কথা শুনে হতবাক চিকিৎসকরা। 
তমলুকের জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‌নাক দিয়ে জলপান করলে কী উপকার হয় আমাদের জানা নেই। বরং নাক দিয়ে জলপান করলে শ্বাসনালিতে জল আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মানুষের মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। নাক দিয়ে জলপান করলে শরীর–মন সুস্থ থাকে, এ কথাও আমার জানা নেই।’‌ সুভাষবাবুকে নাক দিয়ে জলপানের অভ্যাস বদলানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক নীলাঞ্জন চক্রবর্তীও বলেন, ‘‌নাক দিয়ে জল পান করলে শরীর সুস্থ বা শরীরের রোগমুক্ত হওয়ার কোনও কথা চিকিৎসা পদ্ধতিতে উল্লেখ নেই। তবে এই ভুল অভ্যাসে সমস্যা দেখা দিতে পারে।’‌ 
চিকিৎসকদের এই ব্যাখ্যা কোনওভাবেই মানতে নারাজ সুভাষবাবু। উল্টে যতদিন বাঁচবেন ততদিনই নাক দিয়ে জলপান করবেন বলে জানিয়েছেন। আগে বিমা সংস্থার এজেন্ট হিসাবে কাজ করতেন। এখন শুধুই পুজোপাঠ করেন। আর নিয়মিত ৩–৪ লিটার জল পান করেন নাক দিয়ে। তিনি জানান, বেলুড় মঠের কোনও এক মহারাজের থেকে নাক দিয়ে জল পান করার পরামর্শ পেয়েছিলেন। সেই মহারাজও নাক দিয়ে জল পানে অভ্যস্ত। মহারাজের পরামর্শ মেনে টানা দু’‌বছর চেষ্টা করেই নাক দিয়ে জলপান রপ্ত করেন তিনি। সুভাষবাবু বলেন, ‘‌প্রথম প্রথম পারতাম না। কিন্তু পরে আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেছে। সেই থেকেই আমার শরীরে জ্বর, কাশি, সর্দির সমস্যা নেই। মানসিকভাবেও সুস্থ।’‌ একটি বড় মাপের বাটিতে জল নিয়ে নাক দিয়ে জল পান করেন তিনি। সুভাষবাবুর ছেলে সুদীপ্ত বলেন, ‘‌বাবাকে প্রথম দিকে বাধা দিতাম। কিন্তু অবাককরা বিষয় হলেও সেই থেকে বাবার কোনও রোগসমস্যা নেই।’‌ সুভাষবাবুর স্ত্রী শর্মিষ্ঠাদেবীরও এক কথা। প্রতিবেশী প্রণব মিশ্র বলেন, ‘‌আমরাও প্রথম দিকে অবাক হয়েছিলাম। সুভাষদার কোনও রোগসমস্যা নেই।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top