গৌতম মণ্ডল,পাথরপ্রতিমা: ‌বিধ্বংসী আগুন লেগেছিল পাটকাটির গুদাম–সহ দোকান ও বাড়িতে। মালিক নিতাই (‌৪৮)‌ শিট চেষ্টা করেছিলেন গোয়ালে থাকা পোষ্য গরুগুলিকে বাঁচাতে। সেজন্য জ্বলন্ত গোয়ালে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকে  আর বেরিয়ে আসতে পারেননি নিতাইবাবু। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয়েছেন ছেলে সুবল শিটও। তিনি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা বলে দাবি পরিবারের। বুধবার রাতে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে পাথরপ্রতিমার দিগম্বরপুর পঞ্চায়েতের রামনগর আবাদে। 
নিতাই শিটের পাটকাটির গুদাম লাগোয়া বাড়ি। বাড়ির আরেক পাশে মুদির দোকান। বুধবার সন্ধেয় পাটকাটি জ্বালিয়ে রান্না করছিলেন নিতাইবাবুর বৌমা। রান্না চলাকলীন দোকানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় উনুনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে গুদামে মজুত পাটকাটিতে। মুহুর্তে আগুন গ্রাস করে গোটা বাড়িকে। একটু পরেই ফেটে যায় বাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার। এতে চারপাশ জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় আটকে পড়া গুরুগুলিকে বাঁচাতে জ্বলন্ত গোয়ালে  ঢুকে পড়েন নিতাইবাবু। কিন্তু সেখান থেকে আর বেরোতে পারেননি তিনি। কোনওক্রমে বেরিয়ে এসে রক্ষা পান ছেলে সুবল। তবে তিনিও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। আগুন লাগার এক ঘণ্টা পর ডায়মন্ড হারবার থেকে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকলের ৪টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করে। গুদামের দেওয়াল ফাটিয়ে কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। ভোর রাতের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বুধবার রাতেই আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক সমীর জানা ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি দীর্ঘক্ষণ থেকে আগুন নেভানোর তদারকি করেন। তবে আগুন লাগার পর দমকল দেরি করে আসে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেই কারণে আগুনের তীব্রতা বেড়ে গিয়েছিল। এক সময় এলাকার মানুষ চেষ্টা করেও পাম্প দিয়ে জল দেওয়ার চেষ্টা করেও পারেননি। এই ঘটনায় গুদাম মালিকের পাশাপাশি একটি গরুও মারা গিয়েছে। এই গরুটিকে বাঁচানোর জন্যই মালিক নিতাই সীট আগুনের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আগুন থেকে নিতাইবাবু আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। আগুন আয়ত্তে আসার পর নিতাইবাবুর পোড়া দেহটি উদ্ধার করে দমকলের কর্মীরা।

পুড়ে যাওয়া পাটকাঠির গুদাম। পাথরপ্রতিমায়। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top