‌চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,কাটোয়া: অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না ক্যান্সার আক্রান্ত বছর দুয়েকের শিশুকন্যার। আজকালে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ওই দরিদ্র দিনমজুর পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। ওই শিশুকন্যার বাবা সুরজ মাজি ও বিশাখা মাজির সঙ্গে দেখা করেন রবীন্দ্রনাথবাবু। তিনি তঁাদের আশ্বাসদেন চিকিৎসার সবরকম সাহায্য করার। 
বিধায়ক বলেন, ‘ওই বাচ্চার চোখের টিউমার ফেটে ক্যান্সারের রূপ নিয়েছে। কলকাতার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতায়াত–সহ সব রকম খরচেরও দায়িত্ব বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’ বিধায়কের এই আশ্বাসে আপ্লুত শিশুর বাবা ও মা। তঁারা বলেন, ‘কলকাতা, বর্ধমান–সহ বিভিন্ন জায়গায় মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছি। আর চিকিৎসা করানোর সঙ্গতি নেই। বিধায়ক দায়িত্ব নিয়েছেন। ভরসা পাচ্ছি। চিকিৎসার অভাবে চোখের সামনে মেয়েটাকে তিলে তিলে মরে যেতে দেখতে হবে না।’ শুধু বিধায়কই নন, খবরের কাগজে প্রকাশিত যোগাযোগের নম্বর দেখে অনেকেই সাহায্য করতে চেয়ে শিশুর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানান। জন্মের ৪ মাস পর থেকেই শিশুটির বাঁ চোখে টিউমার ধরা পড়ে। প্রথমে কাটোয়ায় ডাক্তার দেখানো হয়। পরে কলকাতায় চিকিৎসা করিয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ‌‌
ওই শিশুকন্যার দিদিমা পূর্ণিমা মাঝি বললেন, ‘প্রথমে ভাবা গিয়েছিল চোখে একটা মামুলি ফোঁড়া হয়েছে। কিন্তু তা যে ক্যান্সারের রূপ নেবে বুঝতে পারিনি।’ এখন ওই শিশুকন্যার বাঁ চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। একটা বড়সড় মাংসের দলা চোখের বাইরে ঝুলছে। মাঝে মাঝে যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠছে দুধের শিশুটি। শিশুটির আত্মীয় অবনী মাঝি বললেন, ‘চিকিৎসা করাতে গিয়ে এক বছরেই ঘরবাড়িটাও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। ধার–দেনা করতে হয়েছে। বিধায়ক পাশে দাঁড়ানোয় মেয়েটা একটু ভাল চিকিৎসা পাবে।’

জনপ্রিয়

Back To Top