অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়,মুরারই: পোলবার পর আবার পুলকার–দুর্ঘটনা। এবার বীরভূমের মুরারই থানা এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলবাসের মেঝের পেছনের পাটাতনের অংশ ভেঙে পড়ায় চলন্ত বাসের মেঝের ফাঁক দিয়ে রাস্তায় পড়ে গুরুতর জখম হল মুরারইয়ের এক প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। বছর পাঁচেকের জখম ছাত্রীর নাম শাগুপ্তা নইম। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই খুদে পড়ুয়াকে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চলন্ত বাস থেকে রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় ছাত্রীটির মাথা, কপাল, নাক, হাত, পা-সহ সারা শরীর রক্তাক্ত হয়। ছাত্রীটির মা মুরারইয়ের ওই সরকারি হাসপাতালেরই নার্স। ক্ষতস্থানগুলির চিকিৎসার পর তিনি অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতাল চত্বরেই তাঁর আবাসনে নিয়ে যান।
এদিন সকালে স্কুল বাসে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে মুরারই তথা এ রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে ঝাড়খণ্ডের মহেশপুর থানা এলাকার সোনারপাড়া গ্রামের কাছে। জানা যায়, মহেশপুরের বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নিজস্ব এই বাসটি অন্যদিনের মতো এদিনও মুরারই থেকে ৩০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল। মুরারই থেকে মহেশপুরে স্কুলের দূরত্ব ১২ কিমি। বাসের সহযাত্রী পড়ুয়ারা জানায়, বাসটি বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ একেবারে পেছনের সিটের নীচে পাটাতনের অংশ ভেঙে পড়ে যায়। ভেঙে পড়া ওই অংশের ওপরের সিটে বসেছিল প্রথম শ্রেণির ছাত্রী শাগুপ্তা। সে চলন্ত বাস থেকে সেই ভাঙা অংশের ফাঁক দিয়ে গলে গিয়ে একেবারে নীচে রাস্তায় পড়ে যায়। বাসের পড়ুয়াদের চিৎকার শুনে চালক বাস থামিয়ে জখম ছাত্রীকে তুলে সমস্ত পড়ুয়া–সহ ওই বাসেই মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই শাগুপ্তার মাকে মেয়ের দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়। খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ডের মহেশপুর থেকে ওই বেসরকারি স্কুলের ১ প্রতিনিধি মুরারই হাসপাতালে এলে তাঁকে ঘিরে অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। 
অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল বাসে বাড়ি থেকে পড়ুয়াদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসার জন্য মোটা টাকা নেওয়া হলেও বাসটির অবস্থা রীতিমতো খারাপ। বেশকিছু জানলার কাচ ভাঙা। সেই ভাঙা জানলা দিয়ে শীতকালে ঠান্ডা হাওয়া ও বর্ষাকালে বৃষ্টির জল ঢুকে যায়। বারবার বলা সত্ত্বেও এই নড়বড়ে বাসটি সারানো হয়নি। অভিভাবকদের বক্তব্য, এদিন বাসটির মাঝখানের পাটাতনের অংশ ভেঙে পড়লে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সেক্ষেত্রে বাসের ভেতর থেকে পড়ে যাওয়া একাধিক পড়ুয়া পেছনের চাকায় পিষ্ট হতে পারত। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ঝাড়খণ্ডের ওই বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ এসএন সিং জানান, বাসটির খারাপ অবস্থার কথা তাঁর জানা ছিল না। এই ঘটনার পরেই ওই বাসটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। 

মায়ের সঙ্গে জখম সেই স্কুলছাত্রী। ছবি:‌ আরিফউদ্দিন আহমেদ।

জনপ্রিয়

Back To Top