Transgender Durgapuja: পরিবার তাঁদের 'ভাসান' দিয়েছে, তাই মাতৃমূর্তিকে বিসর্জন দেন না গরিমা গৃহের রূপান্তরকামীরা

কৌশিক রায়: তাঁরা সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন।

দীর্ঘ সামাজিক কুসংস্কারের শিকার। তাই জীবনের প্রতিটা পদে ধাক্কা খেতে হয়। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাঁচতে শেখেন তাঁরা। তাঁরা রূপান্তরকামী। দুর্গাপুজোয় যখন আট থেকে আশি সবাই আনন্দ করেন সেই সময় তাঁদের লুকিয়ে থাকতে হত ঘরে। কারণ, বাইরে বেরোলেই তো সবাই তাঁদের নিয়ে ঠাট্টা করবে। তাঁরা হয়ে উঠবেন সকলের হাসির পাত্র। এসব থেকে বাঁচতে নিজেরাই শুরু করলেন দুর্গাপুজো। দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দুপুরের কাছে গরিমা গৃহে দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা রূপান্তরকামীরাই। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব নিজেদের মত করেই পালন করেন তাঁরা। পুজোর আড্ডা থেকে শুরু করে মজা, খাওয়াদাওয়া, ভোগ রান্না পুরোটা করেন নিজেরা।

এই পুজোতে মা দুর্গা পূজিত হন বৈষ্ণব মতে। মা এখানে আসেন অর্ধনারীশ্বর রূপে। পুজোর কর্ণধার রঞ্জিতা সিনহা জানালেন, 'এই অর্ধনারীশ্বরের মূর্তি সব জায়গায় পূজিত হয় না। আমরা মা দুর্গাকে দেখতে পাই সব মণ্ডপে। কিন্তু ইন্দ্র, শিব আরও বাকি যেসব দেবতাদের থেকে তিনি শক্তি পেয়েছেন অর্থাৎ সেই হরপার্বতীর যে রূপ সেই রূপে কোথাও তিনি পূজিত হন না। আমরা এটাই বোঝাতে চাই আমাদের একই অঙ্গে সেই হরপার্বতীই বিরাজ করেন।” গত পাঁচ বছর ধরে হয়ে আসছে এই দুর্গাপুজো। মাতৃপ্রতিমাকে বিসর্জন দেওয়াতে বিশ্বাস করেন না তাঁরা। পরিবার থেকে, সমাজ থেকে বিসর্জনের কষ্ট প্রতি মুহূর্তে কুরে কুরে খায় রঞ্জিতাদের মত মানুষদের। তাই তাঁরা মাতৃমূর্তির ভাসানে বিশ্বাসী নন। পাঁচ বছর ধরে একটি প্রতিমাকেই পুজো করে আসছেন তাঁরা। চলতি বছর আসছে নতুন অর্ধনারীশ্বর প্রতিমা। পুরনো আর নতুন দুটি প্রতিমাই রাখা হবে গরিমা গৃহেই। চার দিন নয়, এখানে পুজো হয় ন’দিন ধরে। পথশিশু থেকে শুরু করে  অ্যাসিড আক্রান্ত, সকলে আনন্দ করেন এই পুজোয়। পথশিশুদের নিয়ে এখানে অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পুজো। যাঁরা তাঁদের আলাদা করে দিয়েছে, সেই তথাকথিত মূল স্রোতের মানুষরাও আসেন। আসলে এটা একটা পরিবারের পুজো, জানালেন রঞ্জিতা। চতুর্থীর দিন বিশিষ্ট অতিথিরা উদ্বোধন করবেন বন্ধন আয়োজিত এই পুজো। তারই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই।

আকর্ষণীয় খবর