চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও বিজয়প্রকাশ দাস,কালনা ও পূর্ব বর্ধমান: প্রথমে ধর্ষণ। তারপর মাথায় ভারী বস্তুর আঘাতে খুনের চেষ্টা। গত ৩০ জুন কালনার সিংয়েরকোণ গ্রামের দক্ষিণপাড়ার দশম শ্রেণির ছাত্রীর ওপর এহেন নৃশংস হামলায় নাম জড়িয়েছিল সিরিয়াল কিলার কামরুজ্জামান সরকারের। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই দশমের ছাত্রীকে সুস্থ করতে ৬ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি করা হয়। তবে ডাক্তারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হল। ১২ দিন যমে–মানুষে টানাটানির পর বুধবার রাতে মৃত্যু হল কিশোরীর। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ওই কিশোরীর মৃত্যুর কারণ। 
বৃহস্পতিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর কালনার সিংয়েরকোণে নিয়ে আসা হয় স্থানীয় বাদলা হাইস্কুলের ওই ছাত্রীর দেহ। এরপর ওই ছাত্রীর আত্মীয়–পরিজন, সহপাঠী থেকে শুরু করে এলাকার মানুষজন খুনির কঠিনতম শাস্তি দাবি করেন। কালনা থানা সূত্রের খবর, ওই ছাত্রীর সঙ্গে বর্বর আচরণ ও প্রমাণ লোপাট করতে খুনের চেষ্টার কথা জেরায় স্বীকার করেছে কামরুজ্জামান। পুলিশ আরও জেনেছে মাথায় আঘাত পেয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে ছাত্রীটি। আর সে মরে গেছে ভেবে কামরুজ্জামান বাড়ি থেকে চলে যায়। ছাত্রীর মৃত্যুর ফলে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগের তালিকায় আর একটি নাম সংযোজিত হল।
মৃত কিশোরীর আত্মীয়রা–পরিজনেরা অত্যাচারী–ঘাতক কামরুজ্জামানকে সরাসরি ফঁাসির বদলে আরও কঠিন শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তঁাদের বক্তব্য, যে পাশবিক অত্যাচার কামরুজ্জামান করেছে, তাতে তাকে সহজ শাস্তি ফঁাসি যেন না দেওয়া হয়। যে ভাবে বাচ্চাটি কষ্ট পেয়ে মারা গেছে, তার চেয়েও কয়েক গুণ কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে যেন তাকে মৃত্যু দেওয়া হয়। যাতে সমাজে এই ধরনের পাশবিক অত্যাচার করতে কেউ সাহস না পায়।
কী হয়েছিল ৩০ মে? স্কুলে গরমের ছুটি থাকায় সেদিন দুপুরে ওই ছাত্রী বাড়িতে একাই ছিল। বাবা প্রয়াত হয়েছেন আগেই। মা বিভিন্ন জনের বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে সংসার টানেন। সেদিন সন্ধেয় বাড়ি ফিরে চোখ কপালে ওঠে ছাত্রীর মায়ের। বিছানায় নগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে মেয়ে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে বিছানা। তখনই তাকে ভর্তি করা হয় কালনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিক্যালে।

 

কামরুজ্জামান। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top