সোমনাথ নন্দী,লালগড়: লালগড়ের জঙ্গলে বাঘ খুঁজতে নামানো হল ড্রোন। রাজ্য পুলিস ও কলকাতা পুলিসের দুটি ড্রোনকে বৃহস্পতিবার লালগড়ের পড়ডিহা ও কামরাঙ্গি জঙ্গলে ছাড়া হয়। 
মেদিনীপুর বনবিভাগের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা, ঝাড়গ্রাম মহকুমা পুলিস অফিসার দীপক সরকার ও ড্রোন নিয়ে আসা বিশেষজ্ঞরা এদিন ওই দুটি জঙ্গলে গিয়ে ড্রোন দুটি ছাড়েন। 
এদিকে লালগড়ে বাঘটির খোঁজ খবর নিতে লালগড়ে এসেছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের (ডব্লউডব্লউএফ) কয়েকজন প্রতিনিধি। আসেন প্রধান মুখ্যবনপাল রবিকান্ত সিংহ। তিনি বলেন, ‘‌দুটি ড্রোনকে কাজে লাগানো হয়েছে। বাঘটি জঙ্গলের মধ্যে কোথায় আছে তার সুনির্দিষ্ট স্থান জানতে ড্রোন কাজে লাগবে। তাই ড্রোন ব্যবহার করা হল। 
বাঘটি লালগড় ফরেস্ট রেঞ্জ এলাকার মধ্যে রয়েছে। তিনটি খাঁচা জঙ্গলে পাতা হয়েছে। অতিরিক্ত আরও একটি খাঁচা রাখা আছে। কোথাও যদি লাগে তখন ওটা ব্যবহার করা হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। জঙ্গল এলাকা এখন গ্রামবাসীদের এড়িয়ে চলা উচিত। বাঘকে থাকতে দিন, ও ধরা পড়বে।’‌ 
তিনি জানান, বাঘটি ওড়িশার সিমলিপাল না ঝাড়খণ্ডের দলমা থেকে এসেছে কিনা সেটা জানা যায়নি। বাঘের জন্য এই অপারেশন এখন চলবে। প্রধানত চেষ্টা করা হবে বাঘটিকে খাঁচা বন্দি করার। 
একটিই বাঘ লালগড়ের জঙ্গলে রয়েছে। বাঘ সাধারণত আট থেকে দশ কিলোমিটার হাঁটতে পারে। ক্যামেরাগুলি লাগানো হয়েছে সেগুলি রয়েছে। তবে বাঘটি যদি লোকালয়ে চলে আসে বা কারও বাড়িতে ঢুকে পড়ে তাহলে ঘুমপাড়ানি গুলি করে ঘুম পাড়িয়ে ধরা হবে। তার জন্য ‘ট্রাঙ্কুলাইজ টিম’ও লালগড়ে চলে এসেছে। 
এমনিতে এখন হাতি ও বাঘ রয়েছে লালগড়ের জঙ্গলে। ফলে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রবল ভয়ে কেউ কেউ জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন। তাতে বিপদ আরও বাড়ছে যদিও বনকর্মীরা খবর পেলেই ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলছেন।

বাঘের খোঁজে লালগড়ের আকাশে ড্রোনের চক্কর।ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top