নিরুপম সাহা, ঠাকুরনগর: গভীর রাতে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে পরপর বোমাবাজি। এই ঘটনার পিছনে বিজেপি–র হাত রয়েছে বলে দাবি করেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা ঠাকুরবাড়ির বড় বউ মমতাবালা ঠাকুর। পুলিশ এবং ঠাকুরবাড়ি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাত একটা নাগাদ ঠাকুর বাড়ি সংলগ্ন কামনা সাগরের সিঁড়ির ওপরে প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি, সব মিলিয়ে মোট তিনটি বোমা ফাটে। বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বোমা ফাটার দাগ রয়েছে।
খবর পেয়ে সকাল থেকেই এলাকার মানুষ ঠাকুরবাড়িতে ভিড় জমান। ঠাকুরবাড়িতে থাকেন বিরসা হালদার নামে এক মতুয়া ভক্ত। তিনি ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘‌রাত তখন প্রায় ১১টা। সকলেই গভীর ঘুমে। হঠাৎই তীব্র শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরপর দুটি বোমা পড়ে। সামান্য সময়ের বিরতিতে আরও একটি বোমা পড়ে। শব্দ অনুসরণ করে কামনা সাগরের কাছে গিয়ে দেখি, চারদিকে ধোঁয়া। রাতের অন্ধকারে ওই এলাকায় কাউকে দেখা যায়নি।’‌ দীর্ঘদিন ধরেই ঠাকুরবাড়িতে পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে পুলিশকর্মীরা ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি করেন। বোমা পড়ার শব্দে তারাও উদ্বিগ্ন। এদিন রাতে বোমার শব্দ শুনে পুলিশকর্মীরাও ছুটে আসেন। পরে গাইঘাটা থানা থেকেও পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে আসেন। ঠাকুরবাড়িতে বোমাবাজির ঘটনায় আতঙ্কিত প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌মেয়েদের নিয়ে এখন একাই থাকি ঠাকুরবাড়িতে। ফলে বোমাবাজির ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত হয়ে পড়তে হয়।’‌ 
তঁার অভিযোগ, ‘‌এনআরসি নিয়ে প্রথম থেকেই আন্দোলনে নেমেছি। মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে অসমেও গেছি। বিজেপি যেভাবে এনআরসি নিয়ে মাতামাতি করছে, তাতে লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর তঁাদের বঁাচাতে এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সেই লড়াই থামানোর জন্য ভয় দেখাতে এই বোমাবাজি করা হয়েছে।’‌ তিনি অভিযোগ করেন, ‌‘‌এই ঘটনার পিছনে শান্তনু ঠাকুরের পরিকল্পনা কাজ করেছে।’‌ তঁার বক্তব্য, ‘‌পারিবারিক কারণে অনেক আগে থেকেই শান্তনু এবং তঁার পরিবার আমাকে শত্রু মনে করে। আর এখন পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সেই শত্রুতা আরও বেড়ে গেছে।’‌ এই মুহূর্তে বনগঁার সাংসদ, ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুর বাংলাদেশে রয়েছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার কোনও মতামত পাওয়া যায়নি। কিন্তু তঁার ব্যক্তিগত সচিব শেখর বিশ্বাস বলেন, ‘‌ঠাকুরবাড়ি থেকে আমার বাড়ি ৫০০ মিটার দূরে। বোমাবাজির ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমি সবে শুয়েছি। সেই সময় তীব্র শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। শব্দের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, অনেক দূর থেকেই সেই শব্দ টের পেয়েছেন এলাকার মানুষ। যে এলাকায় বোমাবাজি হয়েছে, সেখানে সিসি ক্যামেরা না থাকায় দুষ্কৃতীদের এই মুহূর্তে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এই বোমাবাজির পিছনে বড়সড় চক্রান্ত রয়েছে। ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ অশান্ত করতে এবং ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’‌ বোমাবাজির ঘটনায় বুধবার সকালে গাইঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শান্তনু ঠাকুরের বাবা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। যদিও সেখানে নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়নি। পুলিশ গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top