আজকালের প্রতিবেদন,হলদিয়া: ৮ বছরের ছেলেটার ইচ্ছে ছিল বাবা–মায়ের হাত ধরে কলকাতায় ঘুরে বেড়াবে। কিন্তু তা আর হল না। এখন বৃষ্টি হচ্ছে, এবার না। পরের বার ঠিক নিয়ে যাব। কথা দিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেই আশ্বাসে মন ভরেনি ৮ বছরের শুভঙ্কর মাইতির। তাকে না নিয়েই সকালে কলকাতা রওনা দিয়েছিলেন বাবা–মা। আর কলকাতায় পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন গেল তাঁদের কাছে। ফোনে তাঁরা পেলেন তাঁদের অভিমানী ছেলের মৃত্যুর খবর। বুধবার মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ হলদিয়ার মহিষাদলের নৈগোপালপুর।  
চিকিৎসার জন্য এদিন সকালে কলকাতা রওনা দেন শুভঙ্করের মা অমিতা আর বাবা গুরুপদ। শুভঙ্কর মঙ্গলবার রাত থেকেই জেদ ধরেছিল বাবা–মায়ের সঙ্গে কলকাতায় যাবে। সকালে বৃষ্টির কারণে ছেলে ও মেয়েকে বাড়িতে রেখে চলে যান তাঁরা। পরে বেলা ১০টা নাগাদ স্কুলে যাওয়ার জন্য স্নান করতে বাথরুমে যায় শুভঙ্কর। তার জন্য ভাত বাড়ছিলেন কাকিমা নমিতা মাইতি। বেশ কিছু সময় বাথরুমের ভেতরে কোনও সাড়া না পেয়ে দরজা ভাঙতেই উদ্ধার হয় গামছার ফাঁসে শুভঙ্করের ঝুলন্ত দেহ। উদ্ধার করে স্থানীয় বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের পর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিস। 
৮ বছরের ছেলে যে অভিমানে এমন ঘটাতে পারে তা স্পষ্ট মনোবিদ সাহেলি গাঙ্গুলির কথায়। তিনি বলেন, ‘‌বাচ্চাটির বয়স বয়ঃসন্ধির নিচে। এক্ষেত্রে চিন্তাশক্তির অপরিপক্কতা এবং তাৎক্ষণিক আবেগ প্রবণতার সম্ভাবনা থেকে যায়। ইচ্ছে পূরণ না হওয়ায় তার মনে আবেগজনিত শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। চিন্তার অপরিপক্কতা সেই শূন্যতাকে সামাল দিতে না পারার জন্য এমন ঘটনা।’‌  এছাড়া বাচ্চাটি আগে থেকেই অবসাদের শিকার ছিল কিনা বা স্কুলে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন সাহেলিদেবী। অবসাদের কথা অবশ্য অস্বীকার করেছেন পরিবারের লোকেরা। তবে সকালে বাবা-মা কলকাতা চলে যাওয়ার চলে যাওয়ার পর শুভঙ্কর যে মনমরা হয়ে ছিল সে কথা জানিয়েছেন তার কাকিমা নমিতা মাইতি। 

জনপ্রিয়

Back To Top