স্বদেশ ভট্টাচার্য,স্বরূপনগর: তান্ত্রিকের কথায় ৩ জনকে কীটনাশক খাওয়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়ি ও গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিল উত্তেজিত জনতা। অসুস্থদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই আগুনে ঘি পড়ে। বৃহস্পতিবার স্বরূপনগরের কাবিলপুর গ্রামে এই ঘটনায় মারমুখী হয়ে ওঠে জনতা। অভিযুক্তকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশকে ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। উত্তেজিত জনতার ইটের ঘায়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্ত আলপনা ঘোষ পলাতক। সেই তান্ত্রিকের খোঁজ চলছে। 
স্বরূপনগরের কাবিলপুর গ্রামে বাড়ি নিত্য ঘোষের। কয়েক বছর আগে সুদের কারবারি নিত্যর মেয়ের জমজ সন্তান গর্ভেই মারা যায়। ফের সন্তান ধারণের জন্য মেয়েকে নিয়ে নিত্যর স্ত্রী আলপনা স্বরূপনগর সীমান্তে এক তান্ত্রিকের কাছে যায়। সেই তান্ত্রিক নিদান দেয় মেয়েকে জিনে ভর করেছে। সেজন্য জমজ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ফের সন্তান পেতে হলে জিন তাড়াতে হবে। সেজন্য ৩টি মৃত্যু ঘটানো চাই। গ্রামবাসীদের দাবি, তান্ত্রিকের পরামর্শে আলপনা প্রতিবেশী শিশুদের খাবার দেওয়ার অছিলায় বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। দু’সপ্তাহ আগে আলপনার প্রথম শিকার প্রতিবেশী ইন্দ্রজিৎ ঘোষের মেয়ে রণি। ২ বছরের শিশু রণিকে তুঁতে জাতীয় কিছু খাওয়ায় ওই মহিলা। বিষক্রিয়ায় মুখে ঘা হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটি কিছু বলতে না পারায় সন্দেহ হলেও আলপনাকে কেউ কিছু বলতে পারেননি। 
এই ঘটনার এক সপ্তাহ পর আলপনা প্রতিবেশী বিমল ঘোষের ৩ বছরের মেয়ে সুমিতাকে ওই একই বস্তু খাওয়ায় বলে অভিযোগ। সুমিতার মা সবিতা বলেন, ‘তেতো স্বাদ বলে নীল রঙের পদার্থ মুখ থেকে ফেলে দেওয়ায় মেয়ে বেঁচে যায়।’ পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকালে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী রিঙ্কি ঘোষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মুখ এবং জিভ পুড়ে যায়। তাকে বসিরহাট জেলা হাসপাতাল থেকে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদিন সকালে রিঙ্কির মৃত্যু হয়েছে বলে জানাজানি হতেই কাবিলপুর–সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ভয়ে ছেলে–‌বউ নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় নিত্য। ততক্ষণে অবশ্য পালিয়ে যায় তার স্ত্রী। উত্তেজিত জনতা তার বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ম্যাটাডর গাড়ি, খড়ের গাদা পুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বসিরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও, আইসি এবং কয়েকটি থানার ওসি–সহ বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ জানায়, একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।  
এদিকে ঘটনাস্থল রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। গৃহবন্দি অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। রিঙ্কির বাবা গৌতম ঘোষ বলেন, ‘হাসপাতালে মৃত্যুর আগে মেয়ে বলে গেছে তাকে জল খেতে দেওয়ার নাম করে কীটনাশক খাইয়েছে আলপনা। তাতেই মুখ ও জিভ পুড়ে গেছে।’  পুলিশ নিত্য, তার ছেলে রাজকুমার ও ‌বউমা নীতাকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলতে নিয়ে যায়। পুলিশ অবশ্য রিঙ্কির মৃত্যুর খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি। তাই ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।

পুড়ছে অভিযুক্তের খড়ের গাদা। (ইনসেটে) মৃত রণি ঘোষ নামে এক শিশু। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top