যজ্ঞেশ্বর জানা, তমলুক: সিপিএম ও বিজেপি–‌র প্রকাশ্য জোট ও কৌশলী জোটের কারণে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তমলুকের সুবর্ণজয়ন্তী হলে শুক্রবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের বর্ধিত সভায় এসে এমনই দাবি করলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাম ও বিজেপি–র গোপন আঁতাতের কথা তুলে তিনি বলেন, ‘‌গোটা দেশের মতো এই জেলাতেও মেরুকরণের রাজনীতি হয়েছে। বামফ্রন্টের ভোট চলে গেছে বিজেপি–‌তে। প্রচার ও মিছিলে গিয়ে ইনকিলাব করলেও প্রচার বন্ধের পর সিলেক্টেড ভোটারদের শিফট করিয়ে দিয়েছে ওরা। ২০১৭ সাল থেকে এই শিফটিং শুরু হয়েছে। বামেরা বিজেপি–র সঙ্গে কথা বলে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে ইব্রাহিম আলিকে দাঁড় করিয়েছে।’‌
তৃণমূলের এই বর্ধিত সভার আগে কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে প্রশাসনিক বৈঠকও করেন মন্ত্রী। দুর্নীতিগ্রস্ত পঞ্চায়েত সদস্য ও পঞ্চায়েত স্তরের সরকারি কর্মীদেরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‌যে ব্লক ও টাউনে ভাল ফল হয়নি তাঁরা জেলা সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র দিন। দলের সাংগঠনিক স্তর থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার কথা বলব না। তাঁদের রাখা হবে কি হবে না, তা দলের সর্বোচ্চ কোর কমিটি আলোচনা করে  ঠিক করুন। কিছু ব্লকে অনেকে ১৯৯৮ ও ২০১২ সাল থেকে ব্লক সভাপতি আছেন। আমার মনে হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার আছে। তৃণমূল আছে বলে, কেউ পঞ্চায়েত প্রধান, কেউ জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ, কেউ বিধায়ক, কেউ মন্ত্রী হচ্ছি। আমাদের অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের হাতে অনেক সময় আছে। বিধানসভা ভোটের আগে পুরসভার ভোট আছে। সামনের দুই থেকে তিন মাস ঝাড়াই বাছাই করতে হবে। কাউকে বাদ দেওয়া নয়। অনেক সিনিয়র নেতা আছেন। তাঁদের ব্লক থেকে জেলায় তুলে আনুন।’‌ এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ‘‌যেখানে খারাপ ফল হয়েছে, সেখানে নতুন মুখ আনার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। ছাত্র–‌যুবদের একটা অংশ আমাদের বাইরে চলে গেছে। প্রতিটি কলেজে পূর্ণাঙ্গ ইউনিট কমিটি করা দরকার। আমাদের আচার–আচরণ ও কথায় পরিবর্তন আনতে হবে।’‌

তমলুকে বক্তা শুভেন্দু অধিকারী।ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top