Berhampore Murder: বহরমপুরে সুতপা খুনে অভিযুক্ত সুশান্তর জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহরমপুর গার্লস কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুতপা চৌধুরী খুনে অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরীকে আর পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল না আদালত।

দুই দফায় মোট ১২ দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে শনিবার বহরমপুর থানার তদন্তকারী অফিসাররা সুশান্তকে আদালতে পেশ করেন। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম সুমনা সাহা রায়, সুশান্তের দু'দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২ মে বহরমপুরের একটি মল থেকে সিনেমা দেখে ফিরে আসার সময় শহীদ সূর্য সেন রোডের কাছে নিজের মেসের সামনে খুন হন সুতপা। তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রীকে খুন করে তাঁরই পূর্ব পরিচিত মালদার বাসিন্দা সুশান্ত চৌধুরী। সুতপাকে খুন করে মালদা পালিয়ে যাওয়ার সময় সামশেরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  

প্রথম দফায় বিচারক সুশান্তের দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। দশ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর গত ১২ তারিখে তাকে ফের আদালতে পেশ করা হয়েছিল। সেদিন সুশান্তের দু'দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। দুদিনের পুলিশি হেফাজতের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ তাকে ফের আদালতে পেশ করা হয়। 

ভারপ্রাপ্ত সিজেএম নতুন করে আর সুশান্তের পুলিশি হেফাজত না দিয়ে তার দু'দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৬ তারিখ ফের সুশান্তকে আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তারা সুশান্তকে জেরার কাজ শেষ করেছেন। পাশাপাশি সুশান্তকে 'ক্রাইম সিনে' এবং মালদাতে নিয়ে গিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত চাকুটিও। 

শনিবারও সুশান্তের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে কোনও আইনজীবী মামলা লড়তে আদালতে হাজির ছিলেন না। জেলা 'লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি'র তরফ থেকে আইনজীবী অলকেশ পাল সুশান্তর হয়ে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক সুমনা সাহা রায় সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে দু'দিনের জন্য সুশান্তর জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। 

অলকেশ পাল বলেন, 'নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনও মামলায় অভিযুক্তের ব্যক্তিগত আইনজীবী না থাকলে তাকে সরকারের তরফ থেকে আইনি পরিষেবা দিতে হবে। যেহেতু সুশান্তের পক্ষে এখনও ব্যক্তিগতভাবে কোনও আইনজীবী মামলাটি লড়ছেন না, তাই আমি আজ তার হয়ে জামিনের আবেদন করেছিলাম।' 

অলকেশবাবু আরও বলেন, 'সুশান্তের পরিবারের তরফ থেকে তার জন্য এখনও কোনও আইনজীবীকে নিযুক্ত করা হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে আজ জামিনের আবেদন করার আগে আমি সুশান্তের সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং সে জামিনের আবেদন করার জন্য মঞ্জুরি দিয়েছিল।' 

অন্যদিকে মৃত কলেজ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা সম্ভবত আগামী ১৬ তারিখে মালদা থেকে বহরমপুরে আসছেন। সুতপা যে মেসে থাকতেন সেখানে এখনও তাঁর ব্যবহৃত কিছু জিনিসপত্র রয়ে গেছে। পরিবারের লোকেরা সেগুলো সংগ্রহ করবেন বলে জানা গেছে। আজ সুতপার বাবার সঙ্গে বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। সুতপার বাবা স্বাধীন চৌধুরী বলেন, 'আমাদের একটাই দাবি সুশান্তের যাতে কঠোরতম শাস্তি হয়। এই বিষয়ে নাড়ুগোপালবাবু আমাকে সর্ব্বতোভাবে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং কোনওরকম অসুবিধার মধ্যে পড়লে তাঁকে জানানোর জন্য বলেছেন।' 

আকর্ষণীয় খবর