অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, সিউড়ি: পাঁচিল টপকে স্কুল চত্বরের ভেতরে ঢুকে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার উত্তাল হল সিউড়ির শতাব্দীপ্রাচীন ‘‌আরটি গার্লস স্কুল’‌ চত্বর। মেয়েদের নিরাপত্তার দাবিতে স্কুলের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা। সিউড়ি থানার পুলিস অভিযোগকারী ছাত্রীকে এদিন বাড়ি থেকে নিয়ে এসে ঘটনার পুনর্গঠনের চেষ্টা করে। 
ছাত্রীটির বাবা জানান, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে। সিউড়ি থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। স্কুলের অন্য অভিভাবকদের কাছে বিষয়টি জানাজানি হয় শুক্রবার সকালে। এরপরেই প্রচুর অভিভাবক স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষিকার কাছে তাঁদের মেয়েদের  নিরাপত্তায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হন। প্রধান শিক্ষিকা মৌ দাশগুপ্ত জানান, ঘটনার কথা ওই ছাত্রী তাঁদের জানায়নি। বৃহস্পতিবার থেকে ছাত্রীটি স্কুলেও আসেনি। এই দু’‌দিনে ছাত্রীর অভিভাবকের পক্ষ থেকেও তাঁদের সঙ্গে     কোনও যোগাযোগ করা বা অভিযোগ জানানো হয়নি। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পেরে এদিন তিনি সিউড়ি থানায় গিয়ে ওসি–র কাছে স্কুলের ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। 
জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম ঋতভাস চ্যাটার্জি। বাড়ি সিউড়ির চাঁদনিপাড়ায়। স্থানীয় অর্কেস্ট্রায় সাউন্ড সিস্টেম, ডিজে প্রভৃতি যন্ত্রের পরিচালক। ছাত্রীটি তার পূর্ব–পরিচিত। আগেও তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে মেসেজ চালাচালি নিয়ে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ থানা পর্যন্ত গড়ায়। ছাত্রীটির অভিযোগ, বুধবার স্কুলে টিফিনের সময় শৌচাগার যাওয়ার মুখে ওই যুবক পাঁচিল টপকে ঢুকে তার হাত ধরে টানাটানি করে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। কিন্তু এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে সে ছুটে এসে ক্লাসে ঢুকে যায়। প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য, টিফিনের সময় স্কুলের প্রায় সতেরোশো ছাত্রীর মধ্যে কয়েকশো ছাত্রী ওই শৌচাগার লাগোয়া স্কুল–প্রাঙ্গণে খেলাধুলা করে। স্কুলের পাঁচিলটি ৯ ফুট উঁচু। সেখান থেকে কেউ লাফ দিয়ে নামলে অন্য ছাত্রীদের চোখে পড়ার কথা। কিন্তু কেউ তা দেখেনি। এদিকে,  অভিযুক্তের দাবি, তার সঙ্গে আগের তিক্ততার বদলা নিতে তাকে এভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিস এদিন অভিযুক্ত যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এদিন সিউড়ি আদালতে ছাত্রীটিরও গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়।

স্কুলের গেটে অভিভাবকদের বিক্ষোভ। ছবি: শান্তনু দাস

জনপ্রিয়

Back To Top