গৌতম চক্রবর্তী, ক্যানিং, ৩০ মে‌- একশো দিনের কাজের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ দিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি শ্রমিক সংগ্রহ অভিযান‌। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ইচ্ছা পরিযায়ী শ্রমিক থেকে লকডাউনে কাজ হারানো শ্রমিক সবাইকেই রোজগার করার সুযোগ করে দিতে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। আর তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক পি উলগানাথনের নির্দেশে জেলায় শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। 
বর্তমানে একশো দিনের কাজে যুক্ত শ্রমিকরাই তাঁদের কাজের ফাঁকে ফাঁকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই প্রচার করছেন। এমজিএনআরইজিএস প্রকল্পে জেলার নোডাল এক আধিকারিক জানান, করোনার জন্য লকডাউন। আর তাতেই মানুষের প্রায় দু–মাস ধরে রোজগার বন্ধ। আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও মানুষ খুবই আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের এই আর্থিক সঙ্কট কাটাতে এবং তাঁদের অর্থের সংস্থান করতে আমরা গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে একশো দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছি। সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষকে আমরা কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আরও মানুষকে কাজে যুক্ত করার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। জেলা দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, গোসাবা ব্লকের রাঙাবেলিয়া, ছোটমোল্লাখালি, কালিদাসপুর, হেঁতালবাড়ি এবং ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের ইটখোলা গ্রামপঞ্চায়েতের কয়েকটি এলাকায় নদীবাঁধ ভেঙেছে। ফলে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিতও হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই সব এলাকায় নদীবাঁধ মেরামতির কাজের জন্য একশো দিনের প্রকল্পে শ্রমিকদের কাজে লাগানো হচ্ছে। আরও শ্রমিকদের এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে এসে তাঁদের হাতে কাজ তুলে দিতে শুক্রবার থেকে প্রচার শুরু হয়েছে। তার জন্য বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা, সাগর ব্লকেও এই প্রচার চলছে। এদিকে মানুষের এই দুরবস্থায় তাঁদের হাতে টাকা দিতে কাজের মজুরিও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, শ্রমিকরা কাজ করলে তাঁদের সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে মজুরি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মজুরি ঢুকে যাচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে কাজে বিপুল উৎসাহও দেখা দিয়েছে।

শ্রমিক সংগ্রহে গ্রামে গ্রামে প্রচার। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top