দীপঙ্কর নন্দী- সাংসদ শান্তা ছেত্রি দিল্লিতে গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন। উড়ান সব বন্ধ। দিল্লির বাড়ি থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত কোনও গাড়ি পাচ্ছেন না। প্লেনের টিকিট কাটা আছে। সোমবার সকালেই বললেন, ‘‌বাড়িতে খাবারদাবারের স্টক সব শেষ। ওটস খাচ্ছি। কার্শিয়াংয়ে ফিরতে পারব না, এটা আমার জানা ছিল না। হঠাৎই সব লকডাউন হয়ে গেল। কার্শিয়াংয়ে আমার ছেলে, তার স্ত্রী ঘন ঘন ফোন করছে আমাকে। আমি তাদের পরিস্থিতির কথা সব জানিয়েছি। ট্রেনও বন্ধ। আমি বরাবরই ট্রেনে যাতায়াত পছন্দ করি। সময় লাগে, কিন্তু কমফর্টেবল। কবে ফিরতে পারব, জানি না।’‌ কলকাতায় ফিরে এসে আইসোলেশনে রয়েছেন রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর বাড়ি ঢাকুরিয়া। সঙ্গে স্ত্রী না থাকলে তিনি আরও অসহায় হয়ে যেতেন। কোহিনূরের ওপর একটা সময় গবেষণা করেছেন। এখন বাড়িতে বসে বই লিখছেন। বই পড়ছেন, পুরনো বাংলা গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনছেন। বললেন, ‘‌আইপডে গান ভাল শোনা যায়।’‌ এক মাসের মতো চাল স্টক করেছেন। এদিন সকাল থেকেই শুনছেন, অনেকে বাড়িতে খবরের কাগজ নেওয়া বন্ধ করেছেন। সুখেন্দু বলেন, ‘‌খবরের কাগজ নেওয়া যদি বন্ধ করতে হয়, তাহলে তো দিনই কাটবে না। টিভি দেখে সারা দিন কাটানো যায় না। ‌ স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করে দিন কাটছে। জানি না, শেষ পর্যন্ত কী হবে?‌’‌
দিল্লি থেকে ফিরেছেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। চারিদিক থেকে ফোন আসছে। এরই মধ্যে এক পরিচিত পরিবার উত্তরাখণ্ডে গিয়ে আটকে গেছে। তাঁরা ফিরতে পারছেন না। ফোন করে ওঁদের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার দিল্লিতে এসে কোথায় থাকবে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। আমাকে পার্টি অফিসে বসতে হয়। যাঁরা দেখা করতে আসছেন, তাঁদের বলা হয়েছে মাস্ক পরতে। দেখা করার সময় অতি অবশ্যই হাতে স্যানিটাইজার লাগাতে বলেছি। আমি লোক ছাড়া থাকতে পারি না। দিদি যে সব নির্দেশ দিয়েছেন, সে সব কর্মীদের মেনে চলতে বলছি। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস একটি পোস্টার করেছেন। তাতে লেখা আছে, আগামী ২৩ থেকে ২৭ মার্চ লকডাউন, নিজেকে বাঁচাতে নিজের পরিবারকে বাঁচাতে, নিজের পাড়াকে বাঁচাতে, নিজের অঞ্চলকে বাঁচাতে, আমাদের বাংলাকে বাঁচাতে, দেশকে বাঁচাতে আসুন আমরা সরকারের নিয়মগুলি মেনে চলি। তবেই আমরা সুস্থ থাকব। করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করতে পারব। মানস ভুঁইয়া ও গীতা ভুঁইয়া কিছুটা সময় বাড়িতে থাকছেন, মানস এখনও পার্টি অফিসে এসে বসেননি। তবে, যাঁদেরই ফোন আসছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু মাস্ক বিলি করে বেড়াচ্ছেন।‌

দিল্লি থেকে ফিরলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top