প্রদীপ দে,কান্দি: বড় ভাঙন মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে। কান্দির কংগ্রেস বিধায়ক অপূর্ব সরকার দল ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে। একদা অধীর চৌধুরির ডান হাত অপূর্ব ওরফে ডেভিড দল ছাড়ায় মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এরপর কে?‌ আর কোন কোন বিধায়ক অধীরের সঙ্গ ছাড়ছেন? যদিও বৃহস্পতিবার কান্দির মোহনবাগান মাঠে অপূর্বর পাশে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর দাবি, ‘‌শুধু অপূর্ব নয়, এই মার্চে আরও বেশ কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূলে আসবেন।’‌ তবে তাঁদের নাম বলেননি শুভেন্দু। অপূর্ব অধীরের ডান হাত হলেও গত এক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল না। দলীয় কোনও কর্মসূচিতে অপূর্বকে অধীর ডাকতেন না।
বৃহস্পতিবার কান্দির মোহনবাগান মাঠে ছিল তৃণমূলের বুথভিত্তিক পঞ্চায়েত কর্মিসম্মেলন। সেই সম্মেলনের মঞ্চ হয়ে গেল দলবদলের মঞ্চ। শুভেন্দুর হাত ধরে নতুন দলে ঢুকলেন অপূর্ব। মঞ্চে বসে স্বাগত জানালেন জেলা সভাপতি সুব্রত সাহা, সৌমিক হোসেনরা। শুভেন্দু শুধু পরিবহণমন্ত্রী নন, দলের পক্ষে মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষক। অপূর্বর দলবদল শুভেন্দুর উদ্যোগে। শুভেন্দু বলেন, ‘‌অধীরবাবু বহুরূপী। বারবার দলবদল করেছেন নিজের স্বার্থে। অপূর্ব বরাবর জাতীয়তাবাদী কর্মী। জাতীয়তাবাদী দল করে এসেছেন। করছেনও। ৫ মার্চ বহরমপুরে সভা করে অধীরবাবু অনেক কথা বলেছেন, যার কোনও গুরুত্ব মানুষের কাছে নেই। আসলে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস নামক দলে এত ভাঙন যে, অধীরবাবুর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আজ তো অপূর্ব এলেন। এই মার্চে আরও অনেকে আসছেন। আদালতের সমস্যা মিটলে কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান হবেন অপূর্ব। ভাইস চেয়ারম্যানকে তখন ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করা হবে। আর পুরসভায় কাজ হতেই থাকবে।’‌
দলত্যাগী বিধায়ক অপূর্ব বলেন, ‘‌উন্নয়নের স্বার্থে, সম্মানের স্বার্থে কোনও সমঝোতা করি না বলেই দল ছাড়লাম। আমি মিরজাফর নই। আজ মমতা ব্যানার্জির কাছে এসে মিরমদন হলাম। শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে এসেছি। তিনি শুধু মন্ত্রী নন, জননেতা। তাঁকে আমি স্যালুট জানাই। দলে আমার কোনও সম্মান ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হচ্ছে, তাতে শামিল হতেই আমি তৃণমূলে এসেছি।’‌

শুভেন্দুর সভায় অপূর্ব সরকার। কান্দিতে। ছবি: চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top