যজ্ঞেশ্বর জানা, খেজুরি: সালটা ১৯৩৮। দেশ জুড়ে তখন স্বাধীনতা সংগ্রামের আবহ। পিছিয়ে ছিল না পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিও। সেই সময় ১২ এপ্রিল ইংরেজ বিরোধী জনমত তৈরিতে খেজুরি এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। জাতীয় সরকারের পতাকা তুলে হেঁড়িয়ার জরারনগর গ্রামে বৈঠক করে দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন স্থানীয় মানুষদের। সেই স্মৃতি, আবেগ আজও ভোলেননি এলাকাবাসী। নেতাজির স্মৃতিতে এই গ্রামের নাম বদলে হয়েছে সুভাষপল্লী। ২৩ জানুয়ারির আগে সেই স্মৃতিই মনে পড়ছে এলাকার মানুষের। প্রাক স্বাধীনতার সে দিনের স্মৃতি আগলে এদিন গোটা গ্রাম মাতে নেতাজি স্মরণে। জন্মদিনে নেতাজির মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে চলে আলোচনাচক্র। সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিকে ধরে রাখতে তঁার ব্যবহৃত নানা জিনিস নিয়ে গড়ে উঠেছিল ‘‌সুভাষ শিল্প ভারতী’‌। গ্রামে গড়ে ওঠা সুভাষ পাঠাগারে সংরক্ষিত রয়েছে ঐতিহ্যের জাতীয় সরকারের পতাকাও। এছাড়াও নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত এই গ্রামে গড়ে উঠেছে সুভাষপল্লী কুঞ্জবিহারী হাই স্কুল, সুভাষচন্দ্র বসু প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন। গ্রামে বসানো হয়েছে নেতাজির একটি আবক্ষ মূর্তিও। আর এভাবেই জরারনগরে মানুষের মনে আজও উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি। যে কথা শোনা গেল সুভাষ শিল্প ভারতীর সম্পাদক তথা এলাকার বাসিন্দা নগেন্দ্রনাথ পড়িয়ার মুখে। কিন্তু বহু আবেদনের পরও নেতাজির নামে হেঁড়িয়া রেলস্টেশনটির নামকরণ না হওয়ায় আক্ষেপ রয়েছে স্থানীয় মানুষের। দেশনায়কের নামে স্টেশনের নামকরণের দাবিতে সোচ্চার খেজুরির সুভাষপল্লী। স্থানীয় বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের সদস্য বিমান নায়ক জানান, সুভাষচন্দ্র বসুর জরারনগর সফরের ইতিহাস সর্বজনবিদিত। কিন্তু গণস্বাক্ষর সংবলিত দাবিপত্র পাঠানোর পরও হেঁড়িয়া স্টেশনের নামকরণ নেতাজির নামে না হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। সুভাষচন্দ্র বসুর নামে রেলস্টেশনটির নামকরণ করা হলে তঁার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে দাবি করেন বিমান। 

জনপ্রিয়

Back To Top