‌‌নিরুপম সাহা, বনগাঁ: এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে স্কুলের ভেতরেই শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করলেন গ্রামবাসীরা। অভিযুক্তকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন প্রধান শিক্ষকও। ভাঙচুর করা হল স্কুল। উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের সুভাষিণী হাইস্কুলের ঘটনা। পুলিস অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে দিন দুয়েক আগে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে মৌখিক অভিযোগ করে বলা হয়, ‘‌স্কুলের বাংলার শিক্ষক শ্যামল সাহা ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন।’‌ এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীর পরিবার, স্কুল পরিচালন সমিতি এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শুক্রবার দুপুর ১২টায় বৈঠক ডাকেন। তবে তার আগেই এদিন স্কুল চলাকালীন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ একদল বহিরাগত স্কুলের ভেতরে জোর করে ঢুকে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারতে মারতে ঘরের বাইরে বের করে আনেন। এরপর পড়ুয়াদের সামনেই স্কুলে থাকা উইকেট, জলের বোতল ইত্যাদি দিয়ে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি কিল, চড়, ঘুসি মারা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপক শিকদার এবং আরও একজন সহ–শিক্ষক। পরে স্থানীয় মানুষ এবং অন্য শিক্ষকেরা এসে আক্রান্ত শিক্ষককে উদ্ধার করেন। মারধর চলাকালীনই অন্য একদল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘরে ব্যাপক তাণ্ডব এবং ভাঙচুর চালায়। ঘটনার খবর পেয়ে বনগাঁ ও গোপালনগর থানার পুলিস এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় পুলিস মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি বুঝে এদিন টিফিনের পর স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। 
অন্যদিকে, এদিন দুপুরে স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মা মেয়ের স্কুলের বাংলার শিক্ষক শ্যামল সাহার বিরুদ্ধে গোপালনগর থানায় শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস এদিন বিকেলেই নূতনগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপক শিকদার এবং পরিচালন সমিতির সভাপতি উজ্জ্বল মণ্ডল জানান, ‘‌শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিশেষ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এদিন স্কুলে হামলা চালানো হয়েছে।’‌‌ স্কুলে ভাঙচুর এবং শিক্ষকদের মারধরের ঘটনায় স্কুলের পক্ষ থেকে এদিন রাতে পুলিসের কাছে পাল্টা লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

প্রাণ বাঁচাতে প্রধান শিক্ষককে জড়িয়ে ধরেছেন অভিযুক্ত। ছবি: প্রতিবেদক‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top