আজকালের প্রতিবেদন
জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় রাজ্য সেরা হয়েছে রায়গঞ্জের সৌরদীপ দাস। কিন্তু এমন কৃতিত্ব দেখালেও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আগ্রহী নয় সে। সৌরদীপের ইচ্ছা বিজ্ঞানী হওয়ার। তাই বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস–এ অঙ্ক বা পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়তে চায় সৌরদীপ। শুধু একা সৌরদীপই নয়, এবারের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সেরা দশের মেধা তালিকায় থাকা অনেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়ে কেউ অঙ্ক, কেউ রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করে গবেষণা করতে চায়। কারোর আবার স্বপ্ন জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়ে ইসরোতে যোগ দেওয়ার। করোনা পরিস্থিতিতে একান্তই রাজ্যের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হলে অধিকাংশই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়তে চায়। প্রায় প্রত্যেকেই জেইই অ্যাডভান্স–এ বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতিমারীর কারণে বারবার পরীক্ষার দিন পিছিয়ে যাওয়াতে আর ধৈর্য ধরে রাখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সকলে। 
সৌরদীপের বাড়ি রায়গঞ্জে হলেও উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা ঝাড়খণ্ডের দেওঘর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠে। সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিকে ৯৭.‌৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সে। সৌরদীপ জানিয়েছে, জয়েন্টে ভাল ফল করার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল, কিন্তু প্রথম হবে ভাবেনি। দিনে ৫–‌‌৬ ঘণ্টা পড়ত। ভবিষ্যতে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে চায়, যাতে সমাজের ভাল হয়। যারা নতুন জয়েন্ট দেবে তাদের উদ্দেশ্যে সৌরদীপের বার্তা— পাঠ্য বই ভাল করে পড়তে হবে। বেঙ্গালুরুতে ইআইএসসি–‌তে ভর্তি হতেও এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসতে হয়। তাতেও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ৪৮ র‌্যাঙ্ক তার। তফসিলি ক্যাটাগরিতে দেশে দ্বিতীয়। 
দ্বিতীয় হয়েছে দুর্গাপুরের ডিএভি মডেল স্কুলের শুভম ঘোষ। শুভমের কোনও গৃহশিক্ষক ছিল না। ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়তে চায় সে।  এবছর সিবিএসই পরীক্ষায় ‌৯৯.‌‌৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে শুভম। পড়াশোনা ছাড়াও টেবিল টেনিস এবং ক্রিকেট খেলতে ভালবাসে। এত ভাল ফল হবে আশা করেনি শুভম। খবরটা শুনে অবিশ্বাস্যই লেগেছিল তার। শুভমের বক্তব্য, ‘‌রিলাক্স মুডে’‌ পড়াশোনা করলে ভাল ফল করা যায়।
কলকাতার দিল্লি পাবলিক স্কুল রুবি পার্কের ছাত্রী শ্রীমন্তি দে তৃতীয় হয়েছে। শ্রীমন্তি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে আপাতত ভর্তি হতে চায়। 

 

 

জেইই অ্যাডভান্স পরীক্ষার ফলাফল দেখে ঠিক করবে ভবিষ্যতে কী পড়বে, কোথায় পড়বে। গবেষণা করার ইচ্ছাও রয়েছে। পড়াশোনা করতেই ভালবাসে শ্রীমন্তি। সিবিএসই দ্বাদশে ৯৮.‌২ শতাংশ পেয়েছে সে। জানাল, লকডাউনের এই সময়টায় লেখালেখি শুরু করেছে। একটা গল্পও লিখেছে। 
কলকাতার সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলের ছাত্র উৎসব বসু চতুর্থ র‌্যাঙ্ক করেছে। উৎসবের ইচ্ছা জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে ইসরোতে যোগ দেওয়ার। এ ব্যাপারে এপিজে আবদুল কালাম তার অনুপ্রেরণা। দেশের প্রথম পাঁচটি আইআইটি–‌র যে–‌কোনও একটিতে পড়তে চায় উৎসব। জেইই অ্যাডভান্সের প্রস্তুতি নিচ্ছে সে। তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হবে। দিনে ৬ ঘণ্টার বেশি পড়েনি উৎসব। তার কথায়, যখনই পড়তে বসেছি, মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। 
 জয়েন্টে পঞ্চম হয়েছে দুর্গাপুরের ডিএভি মডেল স্কুলের আর এক ছাত্র পূর্ণেন্দু সেন। আইআইটি–‌তে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়তে চায়। পঞ্চম হবে আশা করেনি পূর্ণেন্দু। পড়াশোনার পাশাপাশি গল্পের বই পড়তে ভালবাসে সে। ভালবাসে ছবি আঁকতে। এছাড়া ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট ও ফুটবল তার প্রিয়। 
ষষ্ঠ হয়েছে কলকাতার দিল্লি পাবলিক স্কুল রুবি পার্কের আরেক পড়ুয়া অঙ্কুর ভৌমিক। ভবিষ্যতে কী নিয়ে পড়বে, ইঞ্জিনিয়ারিং নাকি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস–এ রসায়ন নিয়ে পড়ে গবেষণায় তা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি সে। অঙ্কুরের কথায়, জেইই অ্যাডভান্সের ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। তবে আগে কাউন্সেলিং শুরু হলে যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয়ে থাকতে চায় সে। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে অঙ্কুর। ফলে টানা অনেকক্ষণ পড়া বা সব সময় পড়তে পারেনি সে। যতক্ষণ পড়েছে মন দিয়ে পড়ার চেষ্টা করেছে। 
সপ্তম কলকাতার গার্ডেন হাইস্কুলের ছাত্র সোহম সমাদ্দার। ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, অঙ্ক নিয়েই পড়তে বেশি আগ্রহী সোহম। ছোট থেকেই অঙ্ক প্রিয় বিষয়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে কোথায় পড়বে সেটা নিয়েই চিন্তিত সে। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস, চেন্নাই ম্যাথমেটিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইতিমধ্যেই ভর্তি হয়ে রয়েছে সোহম। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এর কোনওটিতে কোনও কারণে যেতে না পারলে যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়বে সে। 
অষ্টম হয়েছে কলকাতার বেহালা আর্য বিদ্যামন্দিরের অরিত্র মিত্র। অরিত্রও জেইই অ্যাডভান্সের পরীক্ষা দেবে। তার আগে যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হতে চায়। উচ্চমাধ্যমিকে ৯৭.‌২ শতাংশ পেয়েছে সে। তার মতে সাফল্যের কোনও শর্টকাট হয় না। শেষ মুহূর্তে পড়ে সাফল্যও পাওয়া যায় না। এর জন্য সারা বছরের প্রস্তুতি প্রয়োজন। 
কলকাতার সেন্ট জনস্‌ স্কুলের ছাত্র গিরিক মাস্কারা নবম হয়েছে। গিরিকও জেইই অ্যাডভান্সের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যাদবপুরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হতে চায়। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেস–এও পড়ার ইচ্ছা রয়েছে। 
দশম শিবপুর মন্দিরতলার ক্ষেত্র ব্যানার্জি লেনের বাসিন্দা অর্ক দত্ত।  রাজস্থানের কোটার লালবাহাদুর শাস্ত্রী সেকেন্ডারি স্কুল থেকে সিবিএসই দ্বাদশ পাশ করেছে অর্ক। ওখানেই জেইই অ্যাডভান্সের প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। আইআইটি–‌তে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্কও যাদবপুরে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়রিংয়ে ভর্তি হবে। বাবা শ্যামল দত্ত আয়কর দপ্তরের অফিসার। মা অনুপা দত্ত স্কুল–শিক্ষিকা। একমাত্র ছেলের এই সাফল্যে খুশি দু’‌জনেই।‌
(‌‌তথ্য সহায়তায়:‌ নীলাঞ্জনা সান্যাল, সুনীল চন্দ, আবির রায়, প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়)‌‌‌

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এ বছরের সেরা দশের তালিকায় সিবিএসই বোর্ডের পড়ুয়ার সংখ্যা ৭। কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগজামিনেশন্‌স–এর পড়ুয়ার সংখ্যা ২। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পড়ুয়া মাত্র ১ জন। 
প্রথম:‌ সৌরদীপ দাস (‌‌রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, দেওঘর, ঝাড়খণ্ড)‌‌;‌ দ্বিতীয়:‌ শুভম ঘোষ (‌‌ডিএভি মডেল স্কুল, দুর্গাপুর)‌‌;‌ তৃতীয়:‌ শ্রীমন্তী দে (‌‌দিল্লি পাবলিক স্কুল রুবি পার্ক, কলকাতা)‌‌;‌ চতুর্থ:‌ উৎসব বসু (‌‌সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুল)‌‌;‌ পঞ্চম:‌ পূর্ণেন্দু সেন (‌‌ডিএভি মডেল স্কুল, দুর্গাপুর)‌‌;‌ 
ষষ্ঠ:‌ অঙ্কুর ভৌমিক (‌‌দিল্লি পাবলিক স্কুল রুবি পার্ক, কলকাতা)‌‌;‌ সপ্তম:‌ সোহম সমাদ্দার (‌‌গার্ডেন হাই স্কুল, কলকাতা)‌‌;‌ অষ্টম:‌ অরিত্র মিত্র (‌‌বেহালা আর্য বিদ্যামন্দির, কলকাতা)‌‌;‌ নবম:‌ গিরিক মাস্কারা (‌‌সেন্ট জন্‌স স্কুল, কলকাতা‌)‌‌;‌ দশম:‌ অর্ক দত্ত (‌‌লালবাহাদুর শাস্ত্রী সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল, কোটা, রাজস্থান‌)‌‌।

জনপ্রিয়

Back To Top