চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
পূর্বস্থলী, ১৪ আগস্ট

রেলের হেলদোল নেই। তাই উদ্যোগী সেচ দপ্তর। ভাগীরথীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে কাজ শুরু হল পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের জালুইডাঙায়। কিছুদিন ধরে ভাঙন এতটাই ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে যে, ব্যান্ডেল–কাটোয়া রেলপথের ১৫ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ফলে রেললাইন নদীর পেটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই রেলপথটি হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম রুট। অভিযোগ, রেল দপ্তর থেকে ভাঙন রোধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজরে আনা হয়। সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগী হয় সেচ দপ্তর।
ভাঙন পরিস্থিতি সরজমিনে দেখে যান জেলাশাসক বিজয় ভারতী–সহ সেচ দপ্তরের কর্তারা। আশু ভাঙন রোধে বরাদ্দ হয় ৪২,৫৫,২৮১ টাকা। নাইলনের তারের খাঁচা তৈরি করে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধের কাজ হচ্ছে। এখানকার ভাঙন রোধে রেলের আগে উদ্যোগী হওয়া দরকার ছিল। এখন অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কাজ করছে সেচ দপ্তর। বর্ষার পর ভাঙন রোধে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিকের তোপ, ‘বিপদের সময় রেল কিছুই করল না। রাজ্যের সেচ দপ্তর উদ্যোগী হয়েছে।’ জালুইডাঙার বাসিন্দা সোমনাথ মণ্ডল, মিলন বৈরাগ্যরা বলেন, ‘বিশাল গ্রাম ছিল আমাদের। ভাঙতে ভাঙতে ৬ ভাগের ১ ভাগে এসে ঠেকেছে। মন্দির, ভোটকেন্দ্র, প্রাইমারি স্কুল, জমি, ভিটে— সব তলিয়ে গেল।’ আবার নদীর পূর্ব দিকে রয়েছে নসরতপুর পঞ্চায়েতের কিশোরীগঞ্জ গ্রাম। দিন পনেরো হল, ওই গ্রামটিও ভাঙতে শুরু করেছে।’‌
পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের জালুইডাঙা–কিশোরীগঞ্জের পাশাপাশি পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের ভাগীরথী প্যাঁচানো ঝাউডাঙা পঞ্চায়েতের ঝাউডাঙা ও গঙ্গাপুর গ্রাম দুটিও ভয়াবহ ভাঙনের শিকার। এক সপ্তাহে ১ কিলোমিটারের কাছাকাছি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দা সাধন চন্দ্র, গোবিন্দ কররা বললেন, ‘ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে এলাকার প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল–সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।’ ভাঙন রোধে বোল্ডার দিয়ে কাজ হয়েছিল ২০০৭ সালে। আর বছর দুয়েক আগে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই তা ধুয়ে যায়।’

জনপ্রিয়

Back To Top