প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়
আনলক পর্বেও হাওড়া মাছের আড়তে দৈনিক ৫ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ এই আড়তে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বেচাকেনা। মাছের জোগান রয়েছে। কিন্তু আড়তে ক্রেতা তথা খুচরো ব্যবসায়ীরা না আসায় ব্যবসায় এই বিপুল ক্ষতি হচ্ছে রোজ। ট্রেন বন্ধ, সড়কপথে যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়— এ অবস্থায় এখান থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা এবং ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো রাজ্যে মাছ যেতে পারছে না। পাশাপাশি হাওড়া–সহ হুগলি, মেদিনীপুর, বর্ধমান জেলাতেও এখান থেকে মাছ যাওয়ার পরিমাণ অনেক কমে গেছে। হাওড়া মাছ আড়তের ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বললেন, ‘‌এখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ মেট্রিক টন মাছ বেচাকেনা হত। আনলক পর্বে সেই পরিমাণ এখন নেমে এসেছে দৈনিক ৮০ থেকে ১০০ মেট্রিক টনে। এই মুহূর্তে এখানে থাকা ২৫০ স্টলের প্রায় প্রতিটিতেই বিক্রি কমে গেছে। ভিনরাজ্য বিশেষ করে দক্ষিণ ভারত থেকে মাছ আসাও বন্ধ। এমনিতে হাওড়া মাছের আড়তে ভোর ৪টে থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত কেনাবেচা চলত। প্রায় ২৫০ শ্রমিক কাজ করতেন। এখন সেখানে সকাল ১০টার মধ্যেই বেচাকেনা শেষ। সামান্য শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে।’ মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফের রাজ্য জুড়ে কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে কড়াকড়ি শুরু চালু হওয়ায় ব্যবসার আরও ক্ষতি হবে। এ অবস্থাতেও প্রতিদিন নিয়ম করে পুরো মাছের আড়ত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। হচ্ছে থার্মাল স্ক্রিনিংও। কিন্তু নেই শুধু আশানুরূপ বিক্রিবাট্টা। চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন মাছের আড়তদাররা।

জনপ্রিয়

Back To Top