মিল্টন সেন, হুগলি: সাকুল্যে ঘরে জ্বলে তিনটে এলইডি ল্যাম্প। আর সেই দাম চোকাতে লক্ষাধিক টাকার বিল এসেছে পোলবার দোনারপাড়ায় সুরাই মুর্মুর বাড়িতে। পর্ষদের পরোয়ানা, টাকা না মেটালে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে সংযোগ। চিন্তায় ঘুম ছুটেছে দিনমজুরের পরিবারের।
রাজমিস্ত্রি ছেলে সুমাইয়ের দৌলতে সম্প্রতি কাঁচা ঘরটা পাকা করার কাজ শুরু হয়েছিল। অদৃষ্ট, সম্প্রতি সেই ছেলের মৃত্যুতে ঘরের কাজ আর শেষ হয়নি। আঁধার ছেয়ে যায় সংসারে। পরের জমিতে কাজ করে কত টাকাই বা রোজগার। তা দিয়েই ধারদেনা করে কোনওভাবে ২ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন সুরাইদেবী। এবার বিদ্যুতের বিলে লেখা টাকার অঙ্ক দেখে ঘুম ছুটেছে তাঁর।
বাম আমলে লোকদীপ প্রকল্পে সুরাইদেবীর কুঁড়ে ঘরে পৌঁছেছিল বিদ্যুতের আলো। সে বার বিল জমা দিতে না পারায় লাইন কেটে দিয়েছিল পর্ষদ। কয়েক বছর আগে প্রৌঢ়ের বউমা বকেয়া টাকা মিটিয়ে ফের বিদ্যুৎ সংযোগ আনেন। তখন বাড়িতে থাকা পুরনো লোকদীপের মিটারটিকেই পুনরায় সক্রিয় করে দেন পর্ষদের কর্মীরা। অভিযোগ, তখন থেকেই মিটার রিডিং নেওয়া, বিল দেওয়া অনিয়মিত হয়ে পড়ে। কখনও ৪ হাজার, কখনও আবার ১২ হাজার টাকা বিল আসে। খেয়ে না খেয়ে তা মেটাতে থাকেন সুরাই মুর্মু। কিন্তু চলতি মাসে বাড়িতে আসে লাখ টাকার বিল। মিটার অনুযায়ী মাত্র ১৩ দিনে পুড়েছে ৩ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ। পোলবা বিদ্যুৎ পর্ষদের স্টেশন ম্যানেজার সুবীর রায় বলেন, ‘‌সমস্যা জানিয়ে দরখাস্ত জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তার পর লোক পাঠিয়ে মিটার চেক করে দেখা হবে কোনও ত্রুটি আছে কিনা। তার পর বিল রিজিওনাল অফিসে পাঠানো হবে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top